৪৩/৩৬. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫১৯ - পানি সেচের বিবাদে নবীজির বিচার

নবী (ﷺ)-এর অনুসরণের অপরিহার্যতা।

পানি সেচের বিবাদে ন্যায়বিচার: যুবাইর (রাঃ)-এর ঘটনা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৫১৯

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ: سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرُّ فَأَبى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لِلزُّبَيْرِ: اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ، فَقَالَ: أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক আনসারী নবী (ﷺ)-এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে 'হাররা'র নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দুইজনে নবী (ﷺ)-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যুবাইর (রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪২ : পানি সেচ, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৩৫৯; মুসলিম, পর্ব ৪৩; ফায়ায়েল, অধ্যায় ৩৬, হাঃ ২৩৫৭

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৫১৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক আনসারী ব্যক্তি ও যুবাইর (রাঃ)-এর মধ্যে নালার পানি নিয়ে ঝগড়ার কথা এসেছে। পানি দিয়ে খেজুর বাগান সেচ দেওয়া হতো। আনসারী চাইছিলেন পানি ছেড়ে দেওয়া হোক, আর যুবাইর (রাঃ) আগে নিজের জমি সেচ দিতে চান। তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে তিনি প্রথমে সহজভাবে বললেন, যুবাইর, তুমি নিজের জমি সেচ দাও, তারপর পানি প্রতিবেশীর দিকে ছেড়ে দাও। কিন্তু আনসারী ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়ে নবীজির আত্মীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে কথা বললে নবীজির চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ দেখা যায়। এরপর তিনি যুবাইরকে তাঁর অধিকার পূর্ণভাবে নিতে বলেন। এই হাদিস ন্যায়বিচার, অধিকার এবং বিচারকের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিবাদ হলে ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্তের কাছে যাওয়া উচিত।
  • কারও অধিকার থাকলে তা সম্মানের সাথে দেওয়া দরকার।
  • বিচারের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত অভিযোগ তোলা গুরুতর বিষয়।
  • নবীজি প্রথমে সহজ সমাধান দেন, পরে অধিকার পূর্ণভাবে স্পষ্ট করেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন