৪৪/২৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬০৬ - উহুদের শহীদ ও ফেরেশতাদের ছায়া
জাবির (রাঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম (রাঃ)-এর মর্যাদা।
উহুদের শহীদের মর্যাদা: ফেরেশতাদের ডানার ছায়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬০৬
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما، قَالَ: جِيءَ بِأَبِي، يَوْمَ أُحُدٍ، قَدْ مُثِّلَ بِهِ، حَتَّى وُضِعَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ سُجِّيَ ثَوْبًا فَذَهَبْتُ أُرِيدُ أَنْ أَكْشِفَ عَنْهُ، فَنَهَانِي قَوْمِي، ثُمَّ ذَهَبْتُ أَكْشِفُ عَنْهُ فَنَهَانِي قَوْمِي، فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرُفِرَ فَسَمِعَ صَوْتَ صَائِحَةٍ، فَقَالَ: مَنْ هذِهِ فَقَالُوا: ابْنَةُ عَمْرِو أَوْ أُخْتُ عَمْرِو، قَالَ: فَلِمَ تَبْكِي أَوْ لاَ تَبْكِي، فَمَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رفِعَ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহুদের দিন আমার পিতাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত অবস্থায় নিয়ে এসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সামনে রাখা হল। তখন একখানি বস্ত্র দ্বারা তাঁকে আবৃত রাখা হয়েছিল। আমি তাঁর উপর হতে আবরণ উন্মোচন করতে আসলে আমার কওমের লোকেরা আমাকে নিষেধ করল। পুনরায় আমি আবরণ উন্মুক্ত করতে থাকলে আমার কওমের লোকেরা (আবার) আমাকে নিষেধ করল।পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হল। তখন তিনি (রাসূল (ﷺ)) এক ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শুনে জিজ্ঞেস করলেন, এ কে? লোকেরা বলল, ‘আমরের মেয়ে অথবা (তারা বলল,) ‘আমরের বোন। তিনি বললেন, ক্রন্দন করছো কেন? অথবা বলেছেন, ক্রন্দন করো না। কেননা, তাঁকে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাঁদের পক্ষ বিস্তার করে তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৩: জানাযা, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ১২৯৩; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ২৬, হাঃ ২৪৭১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর পিতার ঘটনা বলেছেন। উহুদের দিন তাঁর পিতাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে আনা হয় এবং কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। জাবির (রাঃ) আবরণ সরাতে চাইলে তাঁর কাওমের লোকেরা তাঁকে নিষেধ করেন। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। তখন তিনি একজন ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শুনে জিজ্ঞেস করেন, এ কে? বলা হয়, ‘আমরের মেয়ে অথবা বোন। তিনি বলেন, কেন কাঁদছো, অথবা কেঁদো না; কারণ তাঁকে উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তাঁদের ডানা দিয়ে তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন। এখানে শহীদের মর্যাদা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানের একটি বিশেষ বর্ণনা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উহুদের শহীদের মর্যাদা এই হাদিসে বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- মৃতের প্রতি সম্মান রাখা সাহাবীদের আচরণে দেখা যায়।
- শোকের সময়ও নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষকে সান্ত্বনা দিতেন।
- ফেরেশতাদের ছায়ার বর্ণনা শহীদের জন্য আল্লাহর সম্মানের ইঙ্গিত দেয়।
