৪৪/২৯. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬০৯ - যুলখালাসা ধ্বংস ও তাওহীদের শিক্ষা

জারীর বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা।

যুলখালাসা ধ্বংসের ঘটনা: তাওহীদ ও দোয়ার শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬০৯

حديث جَرِيرٍ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ وَكَانَ بَيْتًا فِي خَثْعَمَ، يُسَمَّى كَعْبَةَ الْيَمَانِيَةَ قَالَ: فَانْطَلَقْتُ فِي خَمْسِينَ وَمَائَةِ فَارِسٍ مِنْ أَحْمَسَ، وَكَانُوا أَصْحَابَ خَيْلٍ قَالَ: وَكُنْتُ لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ فِي صَدْرِي، حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ أَصَابِعِهِ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: اللهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا فَانْطَلَقَ إِلَيْهَا، فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَهَا ثُمَّ بَعَثَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْبِرُهُ فَقَالَ رَسُولُ جَرِيرٍ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْتهَا كَأَنَّها جَمَلٌ أَجْوَفُ، أَوْ أَجْرَبُ قَالَ: فَبَارَكَ فِي خَيْلِ أَحْمَسَ وَرِجَالِهَا، خَمْسَ مَرَّاتٍ

জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি কি আমাকে যিলখালাসার ব্যাপারে শান্তি দিবে না? খাশ‘আম গোত্রের একটি মূর্তি ঘর ছিল। যাকে ইয়ামানের কাবা নামে আখ্যায়িত করা হত। জারীর (রাঃ) বলেন, তখন আমি আহমাসের দেড়শো অশ্বারোহীকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা করলাম। তারা সুদক্ষ অশ্বারোহী ছিল। জারীর (রাঃ) বলেন, আর আমি অশ্বের উপর স্থির থাকতে পারতাম না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার বুকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, আমি আমার বুকে তাঁর অঙ্গুলির চিহ্ন দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য এ দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! তাঁকে স্থির রাখুন এবং হিদায়াত প্রাপ্ত, পথ প্রদর্শনকারী করুন।’অতঃপর জারীর (রাঃ) সেখানে যান এবং যুলখালাসা মন্দির ভেঙ্গে ফেলেন ও জ্বালিয়ে দেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে এ খবর দেওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে তাঁর নিকট প্রেরণ করেন। তখন জারীর (রাঃ)-এর দূত বলতে লাগল, কসম সে মহান আল্লাহ তা‘আলার! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার নিকট তখনই এসেছি যখন যুলখালাসাকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। জারীর (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৫৪, হাঃ ৩০২০; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ২৯, হাঃ ২৪৭৬

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬০৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) জারীর (রাঃ)-কে বলেন, তুমি কি আমাকে যুলখালাসার ব্যাপারে শান্তি দিবে না? যুলখালাসা ছিল খাশ‘আম গোত্রের একটি মূর্তি ঘর, যাকে ইয়ামানের কাবা বলা হতো। জারীর (রাঃ) আহমাসের দেড়শ অশ্বারোহীকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হন। তিনি নিজে ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারতেন না, তাই নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বুকে হাত রাখেন এবং দোয়া করেন, হে আল্লাহ, তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক করুন। এরপর জারীর (রাঃ) গিয়ে যুলখালাসা ভেঙে ফেলেন ও জ্বালিয়ে দেন। খবর পেয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য পাঁচবার বরকতের দোয়া করেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাওহীদের পথে শিরকের কেন্দ্র থেকে দূরে থাকা জরুরি।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহাবীর জন্য দোয়াও করেছেন।
  • জারীর (রাঃ) নিজের দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • আহমাসের অশ্ব ও অশ্বারোহীদের জন্য বরকতের দোয়া করা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন