২/৩০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬২ - মসজিদ পরিষ্কার রাখার শিক্ষা
মসজিদে পেশাব ও অন্যান্য অপবিত্র দ্রব্যাদি ধৌত করার অপরিহার্যতা এবং মাটি না খুঁড়ে পানির সাহায্যে পরিষ্কার হয়।
মসজিদ পরিচ্ছন্নতা ও নম্র আচরণের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬২
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَامُوا إِلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تُزْرِمُوهُ ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَيْهِ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করলো। লোকেরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তার প্রস্রাব করা বন্ধ করো না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং পানি প্রস্রাবের উপর ঢেলে দেয়া হলো।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ৬০২৫; মুসলিম, পর্ব ২: পবিত্রতা, অধ্যায় ৩০, হাঃ ২৮৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করলে লোকেরা তার দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তাদের থামিয়ে বলেন, তার প্রস্রাব করা বন্ধ করো না। এরপর এক বালতি পানি এনে প্রস্রাবের জায়গায় ঢেলে দেওয়া হয়। এখানে মসজিদ পরিচ্ছন্নতা যেমন আছে, তেমনি ভুলকারীকে সামলানোর নম্র পদ্ধতিও আছে। হাদিসটি শেখায়, ভুল দেখলে তাড়াহুড়া করে রাগ দেখানো সব সময় ভালো ফল আনে না। রাসূল (صلى الله عليه وسلم) আগে ক্ষতি কমালেন, পরে জায়গাটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করলেন। তাই মসজিদ পবিত্র রাখা, নাপাকি দূর করা এবং মানুষকে শান্তভাবে সংশোধন করা—এই তিনটি শিক্ষা একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদ অপবিত্র হলে পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করা যায়।
- ভুলকারীকে সামলাতে ধৈর্য ও নম্রতা দরকার।
- রাগের আগে কাজের ফল ভাবা উচিত।
- মসজিদের সম্মান ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা জরুরি।
