৪৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৩৩ - আনসার গোত্রগুলোর কল্যাণ
আনসার (রাঃ) পরিবারের মধ্যে সর্বোত্তম।
আনসার গোত্রের মর্যাদা: বানূ নাজ্জার থেকে সব গোত্রের কল্যাণ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৩৩
حديث أَبِي أُسَيْدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَيْرُ دُورِ الأَنْصَارِ بَنُو النَّجَّارِ، ثُمَّ بَنُو عَبْدِ الأَشْهَلِ، ثُمَّ بَنُو الْحرِثِ بْنِ خَزْرَجٍ، ثُمَّ بَنُو سَاعِدَةَ؛ وَفِي كُلِّ دُورِ الأَنْصَارِ خَيْرٌفَقَالَ سَعْدٌ: مَأ أَرَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلاَّ قَدْ فَضَّلَ عَلَيْنَا فَقِيلَ: قَدْ فَضَّلَكمْ عَلَى كَثِيرٍ
আবূ উসায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ ‘আবদুল আশহাল তারপর বনূ হারিস ইব্নু খাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা এবং আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। এ শুনে সা‘দ (রাঃ) বললেন, নবী (ﷺ) অন্যদেরকে আমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন? তখন তাঁকে বলা হল; তোমাদেরকে তো অনেক গোত্রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৩ আনসারগণের মর্যাদা, অধ্যায় ৭, হাঃ ৩৭৮৯; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবাগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ৪৪, হাঃ নং ২৫১১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনসারদের বিভিন্ন গোত্রের মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আনসারদের মধ্যে উত্তম গোত্র হলো বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদুল আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনু খাযরাজ, তারপর বানূ সায়িদা। এরপর তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ কথা বলেছেন, আনসারদের সব গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। সা‘দ রাঃ শুনে মনে করলেন, হয়তো অন্যদের তাঁদের উপর শ্রেষ্ঠ করা হয়েছে। তখন তাঁকে বলা হলো, তোমাদেরকেও তো অনেক গোত্রের উপর শ্রেষ্ঠ করা হয়েছে। এই হাদিস গোত্রীয় মর্যাদা নিয়ে অহংকার না করে কল্যাণকে স্বীকার করার শিক্ষা দেয়। কারও বিশেষ মর্যাদা থাকলেও অন্যদের ভালো দিক অস্বীকার করা হয়নি। তাই এই হাদিস আনসারদের ফজিলত এবং ন্যায্য প্রশংসার সুন্দর উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিছু গোত্রের বিশেষ মর্যাদা থাকলেও আনসারদের সব গোত্রেই কল্যাণ আছে।
- অন্যের প্রশংসা শুনে মন ছোট না করে নিজের প্রাপ্ত সম্মানও বোঝা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم প্রশংসায় ভারসাম্য রেখেছেন।
- গোত্র বা দলের মর্যাদা নিয়ে অহংকারের বদলে কল্যাণকে গুরুত্ব দিতে হয়।
