৪৫/২৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৭৩ - মুমিনের জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর দোয়া
প্রকৃতপক্ষে দোষী এমন কোন ব্যক্তিকে যদি নবী (ﷺ) লা‘নত করেন অথবা গালি দেন অথবা তার উপর বদদোয়া করেন তাহলে সেটা তার জন্য পবিত্রতা, প্রতিদান ও দয়ায় পরিগণিত হবে।
মুমিনকে মন্দ বলা হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দোয়া: রহমতের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৬৭৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬৭৩
حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «اللهُمَّ! فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ سَبَبْتُهُ، فَاجْعَلْ ذَلِكَ لَهُ قُرْبَةً إِلَيْكَ، يَوْمَ القِيَامَةِ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ)-কে এ দোয়া করতে শুনেছেনঃ হে আল্লাহ! যদি আমি কোন মুমিন ব্যক্তিকে মন্দ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য আপনার নৈকট্য অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দু'আসমূহ, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ৬৩৬১; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ২৫, হাঃ ২৬০১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে দোয়া করতে শুনেছেন। দোয়াটি হলো: হে আল্লাহ, যদি আমি কোনো মুমিন ব্যক্তিকে মন্দ বলে থাকি, তাহলে কিয়ামতের দিন সেটাকে তার জন্য আপনার নৈকট্য লাভের উপায় বানিয়ে দিন। এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর মুমিনদের প্রতি দয়া ও কল্যাণকামিতা প্রকাশ পায়। এখানে মূল কথা হলো, মুমিনের ক্ষতি নয়, বরং তার কল্যাণ কামনা। এই হাদিসকে অযথা কাউকে গালি দেওয়ার অনুমতি হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ দোয়াটি নবী صلى الله عليه وسلم-এর নিজের ব্যাপারে, এবং তাতে মুমিনের জন্য ভালো ফল চাওয়া হয়েছে। আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা, ভুল হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং মানুষের জন্য কল্যাণের দোয়া করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের জন্য কল্যাণ কামনা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্দর আদর্শ।
- কথায় ভুল হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণ চাওয়া উচিত।
- কাউকে মন্দ বলাকে অভ্যাস বানানো হাদিসের শিক্ষা নয়।
- দোয়ার মাধ্যমে নিজের ভুলের পরিণতি ভালো হওয়ার আশা করা যায়।
