৪৯/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৪৮ - তাওবার আনন্দ ও আল্লাহর দয়া
আল্লাহ তা‘আলার দয়ার প্রশস্ততা এবং তা তাঁর রাগকে ছাড়িয়ে গেছে।
তাওবার ফজিলত: বান্দা ফিরলে আল্লাহ খুশি হন
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৪৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৪৮
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ، سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضٍ فَلاَةٍ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বান্দার তাওবাহর কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা পেয়ে যায়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮০: দুআসমূহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৩০৯;মুসলিম, পর্ব ৪৯ : তাওবাহ, অধ্যায় ১, হাঃ ২৭৪৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাওবা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ বান্দার তাওবায় সেই লোকটির চেয়েও বেশি খুশি হন, যে মরুভূমিতে হারানো উট আবার পেয়ে যায়। মরুভূমিতে উট হারানো মানে খাবার, পানি ও বাঁচার উপায় হারানো। তাই উট ফিরে পাওয়া মানুষের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। নবী صلى الله عليه وسلم এই সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, বান্দা গুনাহ থেকে ফিরে এলে আল্লাহ তার তাওবাকে ভালোবাসেন। এই হাদিস হতাশ মানুষকে আশা দেয়। তবে তাওবা মানে শুধু মুখে বলা নয়; হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। গুনাহের পর নিজেকে শেষ মনে না করে, আল্লাহর ক্ষমার দিকে আশা নিয়ে ফিরতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার।
- আল্লাহ বান্দার তাওবাকে ভালোবাসেন—এতে বড় আশা আছে।
- হতাশ না হয়ে তাওবার পথে ফিরে আসা মুমিনের কাজ।
- তাওবা মানুষের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
