৪৯/৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৫৪ - গুনাহের পর তাওবা ও ক্ষমা
পাপ থেকে তাওবা করলে তাওবা কবুল হয় যদিও পাপ ও তাওবা বারবার হয়।
গুনাহের পর তাওবা: ক্ষমা চাইতে ফিরে আসার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৫৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৫৪
حديث أَبِي هرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْت النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ عَبْدًا أَصَاب ذَنْبًا، وَرُبَّمَا قَالَ، أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ وَرُبَّمَا قَالَ: أَصَبْتُ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ رَبُّهُ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا، أَوْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ، أَوْ أَصَبْتُ آَخَرَ فَاغْفِرْهُ فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ، وَيَأْخُذُ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا وَرُبَّمَا قَالَ: أَصَابَ ذَنْبًا قَالَ: قَالَ رَبِّ أَصَبْتُ أَوْ أَذْنَبْتُ آخَرَ فَاغْفِرْهُ لِي فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثَلاَثًا فَلْيَعْمَلْ مَا شَاءَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি, এক বান্দা গুনাহ করল। বর্ণনাকারী أَصَاب ذَنْبًا না বলে কখনো أَذْنَبَ ذَنْبًا বলেছেন। তারপর সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো গুনাহ করে ফেলেছি। বর্ণনাকারী رَبِّ أَذْنَبْتُ এর স্থলে কখনো أَصَبْتُ فَاغْفِرْ لِي বলেছেন। তাই আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তার প্রতিপালক বললেনঃ আমার বান্দা কি একথা জেনেছে যে, তার রয়েছে একজন প্রতিপালক যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম।তারপর সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুকাল অবস্থান করল এবং সে আবার গুনাহতে লিপ্ত হলো। বর্ণনাকারীর সন্দেহে أَصَاب ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। বান্দা আবার বলল, হে আমার প্রতিপালক? আমি তো আবার গুনাহ করে বসেছি। এখানে أَذْنَبْتُ কিংবা أَصَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার রয়েছে একজন প্রতিপালক যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম।এরপর সে বান্দা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন সে অবস্থায় অবস্থান করল। আবারও সে গুনাহতে লিপ্ত হয়ে গেল। এখানে أَذْنَبَ ذَنْبًا কিংবা أَصَابَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। সে বলল, হে আমার প্রতিপালক? আমি তো আরো একটি গুনাহ করে ফেলেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার একজন প্রতিপালক রয়েছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। এরূপ তিনবার বললেন। অতঃপর সে যা ইচ্ছা তা করুক।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯৭ : তাওহীদ, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ৭৫০৭; মুসলিম, পর্ব ৪৯ : তাওবাহ, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৭৫৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাওবা ও ক্ষমা। এক বান্দা গুনাহ করার পর বলল, হে আমার প্রতিপালক, আমি গুনাহ করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ বললেন, আমার বান্দা জেনেছে যে তার এমন প্রতিপালক আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং শাস্তিও দেন। তাই তাকে ক্ষমা করা হলো। পরে আবার গুনাহ হলে সে আবার ক্ষমা চাইল। হাদিসে এই বিষয় কয়েকবার এসেছে। এখানে বড় শিক্ষা হলো, গুনাহের পর আল্লাহকে ভুলে না গিয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসা। তবে শেষের বাক্যকে গুনাহ করার অনুমতি হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। বরং হাদিসটি দেখায়, বান্দা যদি আল্লাহকে প্রতিপালক মানে, তাঁর ক্ষমা চায় এবং শাস্তির ভয় রাখে, তাহলে তাওবার দরজা তার জন্য আশার জায়গা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহ হলে দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
- আল্লাহ ক্ষমা করেন, আবার শাস্তিও দিতে পারেন—এই বিশ্বাস জরুরি।
- বারবার ভুল হলেও আল্লাহর দরজা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
- তাওবার আশা গুনাহকে হালকা ভাবার কারণ নয়।
