৫০/৭. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮৩ - অবাধ্যতার শাস্তি ও দুর্ভিক্ষ

ধোঁয়া

অবাধ্যতার শাস্তি: দুর্ভিক্ষ, দু‘আ ও বদরের দিনের শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৮৩

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: إِنَّمَا كَانَ هذَا، لأَنَّ قرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَوْا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنينَ كَسِنِي يُوسُفَ فَأَصَابَهَمْ قَحْطٌ وَجَهْدٌ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ، فَيَرَى مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى (فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ يَغْشى النَّاسَ هذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ)قَالَ: فَأُتِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ اسْتَسْقِ اللهَ لِمُضَرَ، فَإِنَّهَا قَدْ هَلَكَتْ [ص: 280] قَالَ: لِمُضَرَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ فَاسْتَسْقَى، فَسُقُوا، فَنَزَلَتْ (إِنَّكُمْ عَائِدُونَ) فَلَمَّا أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ، عَادُوا إِلَى حَالِهِمْ، حِينَ أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَة الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ) قَالَ: يَعْنِي يَوْمَ بَدْرٍ

মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেছেন, অবস্থা এ জন্য যে, কুরাইশরা যখন রাসূল (ﷺ)-এর নাফরমানী করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন দুর্ভিক্ষের দোয়া করলেন, যেমন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ে। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হল যে, তারা হাড্ডি খেতে আরম্ভ করল। তখন মানুষ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তাড়নায় তারা আকাশ ও তাদের মধ্যে শুধু ধোঁয়ার মত দেখতে পেত। এ সম্পর্কেই আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা ছেয়ে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।”বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট (কাফিরদের পক্ষ থেকে) এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহ‌র রাসূল (ﷺ)! মুদার গোত্রের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন। তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি [রাসূল (ﷺ)] বললেন, মুদার গোত্রের জন্য দোয়া করতে বলছ। তুমি তো খুব সাহসী। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন এবং বৃষ্টি হল। তখন অবতীর্ণ হল, তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যখন তাদের সচ্ছলতা ফিরে এলো, তখন আবার নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ নাযিল করলেন, “যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের প্রতিশোধ নেব”। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫ : তাফসীর, অধ্যায় ২, হাঃ ৪৮২১; মুসলিম, পর্ব ৫০ : মুনাফিক ও তাদের হুকুম, অধ্যায় ৭, হাঃ ২৭৯৮

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কুরাইশদের অবাধ্যতা, দুর্ভিক্ষ এবং আল্লাহর পাকড়াওয়ের কথা এসেছে। তারা যখন রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর নাফরমানী করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের মতো দুর্ভিক্ষের দু‘আ করলেন। দুর্ভিক্ষ এত কঠিন হলো যে তারা হাড্ডি খেতে লাগল এবং ক্ষুধার কষ্টে আকাশের দিকে তাকালে ধোঁয়ার মতো দেখতে পেত। এরপর তারা রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বৃষ্টির দু‘আ চাইল। তিনি দু‘আ করলেন, বৃষ্টি হলো, কিন্তু সচ্ছলতা ফিরে এলে তারা আগের অবস্থায় ফিরে গেল। হাদিসটি দেখায়, কষ্টের সময় আল্লাহর দিকে ফিরে আসা জরুরি, কিন্তু সচ্ছলতার সময় আবার অবাধ্য হয়ে যাওয়া মানুষের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অবাধ্যতা কখনো কখনো দুনিয়াতেও কঠিন পরীক্ষার কারণ হতে পারে।
  • কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে ফিরে আসা দরকার।
  • সচ্ছলতা ফিরে এলে আগের অন্যায়ে ফিরে যাওয়া বিপজ্জনক।
  • আল্লাহর পাকড়াওয়ের বিষয়টি মানুষকে সতর্ক করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন