৫২/২০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৫৫ - কানা মিথ্যুক দাজ্জাল ও কাফির লেখা
দাজ্জাল, তার ও তার সঙ্গে যারা থাকবে তাদের বর্ণনা।
দাজ্জাল কানা মিথ্যুক: দুই চোখের মাঝে কাফির লেখা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৮৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৮৫৫
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بُعِثَ نَبِيٌّ إِلاَّ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلاَ إِنَّهُ أَعْوَرُ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَكْتُوبٌ كَافِرٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কোন নবী (আঃ) প্রেরিত হন নি যিনি তার উম্মাতকে এই কানা মিথ্যুক সম্পর্কে সতর্ক করেননি। জেনে রেখো, সে কিন্তু কানা, আর তোমাদের রব কানা নন। আর তার দুই চোখের মাঝখানে কাফির (كَافِرٌ) শব্দটি লিপিবদ্ধ থাকবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯২: ফিতনা, অধ্যায় ২৬, হাঃ ৭১৩১; মুসলিম, পর্ব ৫২ : ফিতনা এবং তার অশুভ আলামতসমূহ, অধ্যায় ২০, হাঃ ২৯৩৩
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৮৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে কয়েকটি স্পষ্ট সতর্কতা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, এমন কোনো নবী পাঠানো হয়নি, যিনি তাঁর উম্মতকে এই কানা মিথ্যুক সম্পর্কে সতর্ক করেননি। তিনি আরও বলেন, দাজ্জাল কানা, আর তোমাদের রব কানা নন। তার দুই চোখের মাঝখানে “কাফির” লেখা থাকবে। এই বর্ণনা মুসলিমকে বুঝিয়ে দেয়, দাজ্জালের ফিতনা বড় হলেও তার চিহ্নও স্পষ্ট। সে মিথ্যুক, সে রব নয়, সে আল্লাহর গুণের অধিকারী নয়। তাই দাজ্জালের হাদিস শুধু ভয় দেখায় না; বরং সত্য-মিথ্যা চেনার সহজ মাপকাঠি দেয়। ঈমান বাঁচাতে এই কথা মনে রাখা জরুরি। তাই হাদিসটি পড়ার সময় মূল শব্দগুলো ধরে রাখা, নিজের ঈমান যাচাই করা এবং অকারণ বাড়তি ব্যাখ্যা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাজ্জাল মিথ্যুক—তার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
- তোমাদের রব কানা নন—এটি ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
- দাজ্জালের চিহ্ন জানা ফিতনা থেকে সতর্ক থাকার একটি উপায়।
