৫৪/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৯০০ - তাওবা ও ক্ষমার আশা
তাফসীর
তাওবা ও ক্ষমার আশা: পাপের পর ঈমান ও সৎকর্মের পথে ফেরা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৯০০
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৯০০
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ ابْنُ أَبْزَى: سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى (وَمَنْ [ص: 334] يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ)، وَقَوْلِهِ (وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ) حَتَّى بَلَغَ (إِلاَّ مَنْ تَابَ) فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ قَالَ أَهْلُ مَكَّةَ: فَقَدْ عَدَلْنَا بِاللهِ وَقَتَلْنَا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ، وَأَتَيْنَا الْفَوَاحِشَ فَأَنْزَلَ اللهُ (إِلاَّ مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحًا) إلى قَوْلِهِ ﴾غَفُورًا رَحِيمًا﴿
সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্নু আবযা (রাঃ) বলেন, ইব্নু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী: “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম” এবং আল্লাহ্র এ বাণী: “এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত, তারা তাকে হত্যা করে না” এবং “কিন্তু যারা তাওবাহ করে” পর্যন্ত, সম্পর্কে আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি জবাবে বললেন, যখন এ আয়াত নাজিল হল তখন মাক্কাহবাসী বলল, আমরা আল্লাহ্র সাথে শারীক করেছি, আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করেছি এবং আমরা অশ্লীল কার্যে লিপ্ত হয়েছি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “যারা তাওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।” ......আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু......পর্যন্ত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫; তাফসীর, অধ্যায় ৩, হাঃ ৪৭৬৫; মুসলিম, পর্ব ৫৪: তাফসীর, ৩০২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৯০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাওবা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে দুটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়—একদিকে মুমিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করলে শাস্তির আয়াত, অন্যদিকে যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে না, অন্যায়ভাবে হত্যা করে না এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় না—এই আয়াতের ধারাবাহিকতায় তাওবার কথা। তিনি বলেন, যখন আয়াত নাযিল হলো, মাক্কাবাসীরা বলল, আমরা তো আল্লাহর সঙ্গে শরীক করেছি, হারাম প্রাণ হত্যা করেছি এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়েছি। এরপর আল্লাহ নাযিল করলেন—কিন্তু যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—শেষে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হাদিসে পাপকে হালকা করা হয়নি; বরং তাওবা, ঈমান ও সৎকর্মের পথে ফিরে আসার দরজা দেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বড় পাপের পরও তাওবার দরজা নিয়ে কুরআনে আলোচনা আছে।
- তাওবার সঙ্গে ঈমান ও সৎকর্মের কথা এসেছে।
- শিরক, হত্যা ও অশ্লীল কাজকে হালকা করে দেখা যায় না।
- আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার আশা মানুষকে সংশোধনের পথে ডাকে।
