০/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২ - ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস বলার কঠিন সতর্কতা
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি মিথ্যারোপের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি
ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস: নবীর নামে কথা বলার আগে সতর্ক হোন
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২
حَدِيْثُ أَنَسٍ قَالَ إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এ কথাটি তোমাদের নিকট বহু হাদীস বর্ণনা করতে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩: আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ৩৮, হাঃ ১০৮; মুসলিম মুকাদ্দামাহ, হাঃ ৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) নিজের সতর্কতার কথা বলেছেন। তিনি বেশি বেশি হাদিস বর্ণনা করতে ভয় পেতেন, কারণ নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর উপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। এখানে মূল বিষয় হলো ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস বলা থেকে বেঁচে থাকা। হাদিস বর্ণনা শুধু তথ্য বলা নয়; এটি বড় আমানত। তাই কোনো কথা রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বলার আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। এই শিক্ষা আমাদের মুখের কথায়, লেখায় এবং শেয়ার করা বার্তায়ও সতর্ক হতে বলে। হাদিসের নামে সুন্দর কথা পেলেই তা যাচাই ছাড়া প্রচার করা নিরাপদ নয়। তাই কম জানা অবস্থায় বেশি বলার চেয়ে, নিশ্চিত জেনে অল্প বলা নিরাপদ। আনাস (রাঃ)-এর ভয় আমাদের হাদিসের আমানত বোঝাতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছা করে নবীর নামে মিথ্যা বলা ভয়াবহ সতর্কতার বিষয়।
- সাহাবীরা হাদিস বর্ণনায় খুব সাবধান থাকতেন।
- দ্বীনের কথা বলার আগে নিশ্চিত হওয়া একটি বড় দায়িত্ব।
- হাদিসের নামে কথা ছড়ানোর আগে যাচাই করা দরকার।
