০/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩ - নবীর নাম, স্বপ্নে দেখা ও মিথ্যার সতর্কতা
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি মিথ্যারোপের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি
নবীকে স্বপ্নে দেখা ও নবীর নামে মিথ্যা বলার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ ﷺ قَالَ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা নাম রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় আকৃতি ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার আসন বানিয়ে নেয়।’
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩: আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ৩৮, হাঃ ১১০; মুসলিম মুকাদ্দামাহ, হাঃ ৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি বিষয় একসাথে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তাঁর নামে নাম রাখা যায়, কিন্তু তাঁর কুনিয়াতে নাম রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, যে তাঁকে স্বপ্নে দেখে, সে সত্যিই তাঁকেই দেখে; কারণ শয়তান তাঁর আকৃতি ধারণ করতে পারে না। এরপর তিনি আবার কঠিন সতর্কতা দিয়েছেন—যে ইচ্ছে করে তাঁর উপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আসন বানিয়ে নেয়। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো নবীকে স্বপ্নে দেখা, নবীর নাম ব্যবহার এবং নবীর নামে মিথ্যা বলা—এসব বিষয়ে সীমা মানা। এখানে কোনো বাড়তি দাবি না করে হাদিসের কথাতেই থামা নিরাপদ। তাই স্বপ্নের দাবি করলেও হাদিসের সীমা মানা জরুরি। আর মিথ্যা বর্ণনার সতর্কতা এই পুরো আলোচনাকে আরও ভারী করে তোলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে নাম রাখা যায়, তবে তাঁর কুনিয়াতে নয়।
- স্বপ্নে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দেখার বিষয়ে হাদিসে বিশেষ কথা এসেছে।
- শয়তান নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আকৃতি ধারণ করতে পারে না।
- নবীর নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলা থেকে কঠোরভাবে বাঁচতে হবে।
