৪/২১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৪১ - আবূ বকর রা.-এর ইমামত ও নবীজির শেষ নির্দেশ
অসুখের কারণে ও সফরে যাওয়ার কারণে বা অন্য যে কোন কারণে সঙ্গত ওজর উপস্থিত হলে সালাতে অন্যকে ইমামের স্থলাভিষিক্ত করা।
আবূ বকর রা.-এর ইমামত: সালাতে নেতৃত্বের এক গভীর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৪১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৪১
حديث أَنَسٍ، قَالَ: لَمْ يَخْرُجِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثًا، فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ، فَذَهَبَ أَبُو بَكْرٍ يَتَقَدَّمُ؛ فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحِجَابِ فَرَفَعَهُ، فَلَمَّا وَضَحَ وَجْهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا نَظَرْنَا مَنْظَرًا كَانَ أَعْجَبَ إِلَيْنَا مِنْ وَجْهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ وَضَحَ لَنَا، فَأَوْمَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَتَقَدَّمَ، وَأَرْخَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحِجَابَ، فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ حَتَّى مَاتَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, (রোগশয্যায় থাকার কারণে) তিনদিন পর্যন্ত নবী (ﷺ) বাইরে আসেন নি। এ সময় এক সময় সালাতের ইকামত দেয়া হল। আবূ বকর (রাঃ) ইমামত করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী (ﷺ) তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী (ﷺ)-এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তাঁর চেহারার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমরা আর কখনো দেখিনি। যখন তাঁর চেহারা আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী (ﷺ) হাতের ইঙ্গিতে আবূ বকর (রাঃ)-কে (ইমামতের জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে আর দেখার সৌভাগ্য হয়নি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১০: আযান, অধ্যায় ৪৬, হাঃ ৬৮১; মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ২১, হাঃ ৪১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেষ সময়ের একটি হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা এসেছে। তিনি তিন দিন বাইরে আসতে পারেননি। এদিকে সালাতের ইকামত দেওয়া হলে আবূ বকর (রাঃ) ইমামত করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) ঘরের পর্দা উঠিয়ে সাহাবীদের দিকে তাকালেন। সাহাবীরা তাঁর পবিত্র চেহারা দেখে গভীর আনন্দ অনুভব করলেন। এরপর তিনি হাতের ইশারায় আবূ বকর (রাঃ)-কে সামনে এগিয়ে যেতে বললেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জামাআতের সালাত বন্ধ রাখা হয়নি এবং ইমামত দায়িত্বশীলতার বিষয়। মূল শিক্ষা হলো, সালাতে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব মানা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশকে সম্মান করা। এখানে আবূ বকর রা.-এর ইমামত শুধু একটি ঘটনা নয়; এটি জামাআতের সালাতে দায়িত্ব ও আনুগত্যের সুন্দর উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাআতের সালাতে ইমামের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ পেলে তা সম্মানের সঙ্গে মানতে হয়।
- অসুস্থতার সময়েও সালাতের গুরুত্ব অবহেলা করা হয়নি।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন।
