৪/২১. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৪২ - আবূ বকর রা.-কে সালাত পড়ানোর নির্দেশ

অসুখের কারণে ও সফরে যাওয়ার কারণে বা অন্য যে কোন কারণে সঙ্গত ওজর উপস্থিত হলে সালাতে অন্যকে ইমামের স্থলাভিষিক্ত করা।

আবূ বকর রা.-এর ইমামত: নবীজির স্পষ্ট নির্দেশ

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৪২

حديث أَبِي مُوسى، قَالَ: مَرِضَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاشْتَدَّ مَرَضُهُ، فَقَالَ: مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ قَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّهُ رَجُلٌ رَقِيقٌ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاس، قَالَ: مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ، فَعَادَتْ، فَقَالَ: مُرِي أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَإِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَصَلَّى بِالنَّاسِ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, ক্রমে তাঁর অসুস্থতা তীব্রতর হলে তিনি বললেন, আবূ বক্রকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি তো কোমল হৃদয়ের লোক, যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। নবী (ﷺ) আবার বললেন, আবূ বাকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আবার সে কথা বললেন। তখন তিনি আবার বললেন, আবূ বক্রকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। তোমরা ইউসুফের (আঃ) সাথী রমণীদেরই মতো। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ নিয়ে আসলেন এবং তিনি নবী (ﷺ)-এর জীবদ্দশাতেই লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ১০ : আযান, অধ্যায় ৪৬, হাঃ ৬৭৮; মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ২১, হাঃ ৪২০

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৪২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দেখা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে মানুষের ইমামত করতে বললেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আবূ বকর (রাঃ) কোমল হৃদয়ের মানুষ; তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্থানে দাঁড়ালে কান্না বা আবেগের কারণে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন না। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) একই নির্দেশ আবারও দিলেন। শেষে আবূ বকর (রাঃ)-এর কাছে খবর পৌঁছল এবং তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশাতেই লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতে ইমামত ও নবীজির নির্দেশ মানা। এখানে ব্যক্তিগত আবেগের কথা এসেছে, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই শেষ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই জামাআতের সালাতে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালন বড় শিক্ষা হিসেবে সামনে আসে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইমামত একটি দায়িত্ব, যা যোগ্য ব্যক্তির ওপর দেওয়া হয়।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ বারবার স্পষ্টভাবে মানতে বলা হয়েছে।
  • ব্যক্তিগত আবেগ থাকলেও জামাআতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
  • আবূ বকর (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশায় মানুষকে সালাত পড়িয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন