৪/৩৪. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৬১ - মিথ্যা অভিযোগ ও সালাতের ন্যায় যাচাই

যুহরের ও আসরের সালাতে কিরাআত।

মিথ্যা অভিযোগ থেকে সতর্কতা: সা‘দ (রাঃ)-এর সালাতের ঘটনা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৬১

حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ رضي الله عنه، فَعَزَلَهُ، وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَمَّارًا فَشَكَوْا حَتَّى ذَكَرُوا أَنَّهُ لاَ يُحْسِنُ يُصَلِّي، فَأَرْسَلَ إِلَيْه، فَقَالَ: يَا أَبَا إِسْحقَ إِنَّ هؤُلاَءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لاَ تُحْسِن [ص: 95] تُصَلِّي قَالَ أَبُو إِسْحقَ: أَمَّا أَنَا وَاللهِ فَإِنِّي كُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا أَخْرِمُ عَنْهَا، أُصَلِّي صَلاَةَ الْعِشَاءِ فَأَرْكُدُ فِي الأُولَيَيْنِ، وَأُخِفُّ فِي الأُخْرَيينِ قَالَ: ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحقَفَأَرْسَلَ مَعَهُ رَجُلاً، أَوْ رِجَالاً، إِلَى الْكُوفَةِ فَسَأَلَ عَنْهُ أَهْلَ الْكُوفَةِ، وَلَمْ يَدَعْ مَسْجِدًا إِلاَّ سَأَلَ عَنْهُ، وَيُثْنُونَ مَعْرُوفًا، حَتَّى دَخَلَ مَسْجِدًا لِبَنِي عَبْسٍ؛ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةَ، يُكْنَى أَبَا سَعْدَةَ؛ فَقَالَ: أَمَّا إِذْ نَشَدْتَنَا فَإِنَّ سَعْدًا كَانَ لاَ يَسِيرُ بِالسَّرِيَّةِ، وَلاَ يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، وَلاَ يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةقَالَ سَعْدٌ: أَمَا وَاللهِ لأَدْعُوَنَّ بِثَلاَثٍ: اللهُمَّ إِنْ كَانَ عَبْدُكَ هذَا كَاذِبًا قَامَ رِيَاءً وَسُمْعَةً فَأَطِلْ عُمْرَهُ، وَأَطِلْ فَقْرَهُ، وَعَرِّضْهُ بِالْفِتَنِ فَكَانَ بَعْدُ، إِذَا سُئِلَ يَقُولُ: شَيْخٌ كَبيرٌ مَفْتُونٌ أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ (أَحَدُ رُوَاةِ هذَا الْحَدِيثَ) فَأَنَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ، قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ مِنَ الْكِبَرِ، وَإِنَّهُ لَيَتَعَرَّضُ لِلْجَوَارِي فِي الطُّرُقِ يَغْمِزُهُنَّ

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কূফাবাসীরা সা‘দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার (রাঃ)-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা‘দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। ‘উমর (রাঃ) তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না।সা‘দ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ‘ইশার সালাত আদায় করতে প্রথম দুইরাক‘আতে একটু দীর্ঘ ও শেষের দুইরাক‘আতে সংক্ষেপ করতাম। ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর ‘উমর (রাঃ) কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা‘দ (রাঃ)-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা‘দ (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তারা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন।অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্‌স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইব্‌নু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা‘দাহ্ বলে ডাকা হত দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহ্‌র নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা‘দ (রাঃ) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গনীমতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা‘দ (রাঃ) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তিনটি দোয়া করছিঃ ইয়া আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে-১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন,২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন।পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সা‘দ (রাঃ)-এর দোয়া আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহঃ) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে পড়েছে এবং সে পথে মেয়েদের উত্যক্ত করত এবং তাদের চিমটি কাটতো।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ১০ : আযান, অধ্যায় ৯৫, হাঃ ৭৫৫; মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ৩৪, হাঃ ৪০৫

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৬১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মিথ্যা অভিযোগ, ন্যায় যাচাই এবং ইমামের সালাতের আদব। কূফার কিছু লোক সা‘দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে, তিনি ভালোভাবে সালাত আদায় করেন না। কিন্তু সা‘দ (রাঃ) স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের মতোই সালাত আদায় করেন। বিশেষ করে ইশার সালাতে প্রথম দুই রাকআত একটু দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকআত সংক্ষিপ্ত করতেন। ‘উমার (রাঃ) অভিযোগ শুনেই সিদ্ধান্তে থেমে যাননি; তিনি মানুষের কাছ থেকে যাচাই করিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, কারও বিরুদ্ধে কথা শুনলে তা যাচাই করা দরকার। মিথ্যা কথা, লোক দেখানো অভিযোগ এবং অন্যায় অপবাদ মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনলেই তা সত্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
  • ইমামের সালাত রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতির কাছাকাছি হওয়া উচিত।
  • মিথ্যা অভিযোগ ও আত্মপ্রচার মানুষকে খারাপ পরিণতির দিকে নিতে পারে।
  • দায়িত্বশীল ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন