৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৬২ - পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়
ফজরের ও মাগরিবের সালাতে কিরাআত।
সালাতের ওয়াক্ত: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৬২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৬২
حديث أَبِي بَرْزَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الصُّبْحَ وَأَحَدُنَا يَعْرِفُ جَلِيسَهُ [ص: 96] وَيَقْرأُ فِيهَا مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ، وَيُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، وَالْعَصْرَ وَأَحَدُنَا يَذْهَبُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ ثُمَّ يَرْجِعُ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَلاَ يُبَالِي بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ
আবূ বারযা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এমন সময় ফাজরের সালাত আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী অপরজনকে চিনতে পারতো। আর এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যুহরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়তো। তিনি ‘আসরের সালাত আদায় করতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মাদীনার শেষ প্রান্তে পৌঁছে আবার ফিরে আসতে পারতো, তখনও সূর্য সতেজ থাকতো। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [আবূ বারযা (রাঃ)] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ‘ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনোরূপ দ্বিধাবোধ করতেন না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯ : সালাতের সময়সমূহ, অধ্যায় ১১, হাঃ ৫৪১; মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ৪৬১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের ওয়াক্ত নিয়ে খুব দরকারি শিক্ষা আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ফজরের সালাত এমন সময়ে আদায় করতেন, যখন পাশে বসা মানুষকে চিনতে পারা যেত। ফজরে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। যুহরের সালাত আদায় করতেন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার পর। আসরের সালাত এমন সময়ে আদায় করতেন যে, কেউ মাদীনার শেষ প্রান্তে গিয়ে ফিরে এলেও সূর্য তখনো উজ্জ্বল থাকত। ইশার সালাত রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি দ্বিধা করতেন না। এখানে সালাতের সময়, কিরাআতের পরিমাণ এবং ইশার সালাত বিলম্ব করার বৈধতার একটি সহজ ছবি পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ সালাত নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করার গুরুত্ব আছে।
- ফজরের সালাতে তুলনামূলক দীর্ঘ কিরাআত করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের মধ্যে এসেছে।
- আসরের সালাত এমন সময়ে পড়া হতো, যখন সূর্য এখনো সতেজ থাকত।
- ইশার সালাত কিছু সময় পিছিয়ে পড়ার বর্ণনা এই হাদিসে আছে।
