১/২৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩৮ - মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন ও সতর্কতা
মুনাফিকের স্বভাবের বর্ণনা।
মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি: মিথ্যা, ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতের খিয়ানত
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৩৮
حديث أَبي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: آيَةَ الْمُنافِق ثَلاثٌ: إِذا حَدَّثَ كَذَب، وَإِذا وَعَد أَخْلَفَ، وَإِذا اؤْتُمِنَ خَانَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি—১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে;২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করেএবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২: ঈমান, অধ্যায় ২৪, হাঃ ৩৩; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৫৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি খুব সহজ ভাষায় বলেছেন। প্রথম চিহ্ন হলো, কথা বললে মিথ্যা বলা। একজন মুমিনের মুখে সত্য থাকা উচিত, কারণ কথা মানুষের চরিত্র প্রকাশ করে। দ্বিতীয় চিহ্ন হলো, অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করা। কেউ কোনো কথা দিলে বা ওয়াদা করলে সেটি রক্ষা করার চেষ্টা করা ঈমানি চরিত্রের অংশ। তৃতীয় চিহ্ন হলো, কারও আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা। আমানত শুধু টাকা-পয়সা নয়; কারও জিনিস, দায়িত্ব বা বিশ্বাসও আমানতের মধ্যে পড়ে। এই হাদিস আমাদের নিজের চরিত্র যাচাই করতে শেখায়। আমরা কথা, ওয়াদা ও আমানতের ব্যাপারে কতটা সতর্ক—তা ভাবা দরকার। মুনাফিকের আলামত থেকে বাঁচতে হলে সত্য বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আমানত ঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া জীবনের নিয়ম বানাতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা বলার সময় মিথ্যা থেকে বাঁচা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
- ওয়াদা বা অঙ্গীকার করলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত।
- কারও আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা মুনাফিকের আলামতের মধ্যে পড়ে।
- নিজের চরিত্র যাচাইয়ের জন্য এই তিনটি বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভাবা দরকার।
