৬/১৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪২৪ - তাহাজ্জুদে বসে কিরাআত করার বর্ণনা
নফল সালাত দাঁড়িয়ে, বসে এবং একই সালাতের কিছু দাঁড়িয়ে ও বসে পড়া বৈধ।
তাহাজ্জুদ নামাজে বসে কিরাআত: নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪২৪
حديث عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ جَالِسًا، حَتَّى إِذَا كَبِرَ قَرَأَ جَالِسًا، فَإِذَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنَ السُّورَةِ ثَلاَثُونَ أَوْ أَرْبَعُونَ آيَةً، قَامَ فَقَرَأَهُنَّ ثُمَّ رَكَعَ
মু’মিনদের মা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাতের কোন সালাতে আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বসে কিরাত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি বসে কিরাত পড়তেন। যখন (আরম্ভকৃত) সূরার ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সে পরিমাণ কিরাত পড়ার পর রুকু করতেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৯ : তাহাজ্জুদ, অধ্যায় ১৬, হাঃ ১১৪৮; মুসলিম, পর্ব ৬; মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা কসর করার বর্ণনা, অধ্যায় ১৬, হাঃ ৭৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতের সালাত বা তাহাজ্জুদ নামাজের একটি বিশেষ দিক এসেছে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে রাতের কোনো সালাতে বসে কিরাআত পড়তে দেখেননি, যতদিন না তিনি বয়সে বড় হন। পরে বার্ধক্যের সময় তিনি বসে কিরাআত পড়তেন। যখন সূরার ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন। দাঁড়িয়ে সেই অংশ পড়ার পর রুকু করতেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সালাতে শরীরের শক্তি ও অবস্থার খেয়াল রাখা যায়। তবে মূল কথা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم কিরাআত, দাঁড়ানো ও রুকুর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। যারা তাহাজ্জুদ নামাজ, বসে সালাত আদায় এবং রাতের সালাতের নিয়ম জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিসটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাঠকের জন্য নিরাপদ পথ হলো, বর্ণনার মূল শব্দগুলো ধরে আমলটি শান্তভাবে বুঝে নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাতে সাধারণত দাঁড়িয়ে কিরাআত করতেন।
- বার্ধক্যে তিনি বসে কিরাআত পড়েছেন—এটি সহজতার দিক দেখায়।
- রুকুর আগে দাঁড়িয়ে কিরাআতের বাকি অংশ পড়ার বর্ণনা এসেছে।
- সালাতে শরীরের সামর্থ্য বিবেচনা করা যায়।
