৬/২৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৩৮ - তাহাজ্জুদের আগে আয়াত তিলাওয়াত
রাতের সালাতে দোয়া এবং রাতে সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া।
তাহাজ্জুদের আগে আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৪৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৪৩৮
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسِ، أَنَّهُ بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ خَالَتَهُ، فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَواتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي [ص: 147] قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا؛ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ؛ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى أَتَاهُ الْمُؤذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ
আবদুল্লাহ্ ইব্নু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একদা নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর খালা। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি বিছানার প্রশস্ত দিকে শুলাম এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-ও তাঁর স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শুলেন; আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জাগলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। অতঃপর সূরা আলু-’ইমরানের শেষ দশটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক হতে সুন্দরভাবে ওজু করলেন। অতঃপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিয়ে ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। অতঃপর তিনি দুইরাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দুইরাক’আত, তারপর দুইরাক’আত, তারপর দুইরাক’আত, তারপর দুইরাক’আত, তারপর দুইরাক’আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর নিকট মুয়াজ্জিন এলে তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দুইরাক’আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪ : উযূ, অধ্যায় ৩৬, হাঃ ১৮৩; মুসলিম, পর্ব ৬; মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা সর করার বর্ণনা, অধ্যায় ২৬, হাঃ ৭৬৩
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৪৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাতের বিস্তারিত দৃশ্য বর্ণনা করেন। তিনি মাইমূনাহ (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। রাত অর্ধেকের কাছাকাছি হলে নবী صلى الله عليه وسلم জাগলেন, হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের ভাব মুছলেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর ঝুলন্ত মশক থেকে সুন্দরভাবে ওজু করে সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর মতো করে ওজু করে পাশে দাঁড়ালে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ডান পাশে দাঁড় করালেন। এরপর দুই দুই রাকআত করে সালাত পড়লেন, শেষে বিতর করলেন। পরে মুয়াযযিন এলে হালকা দুই রাকআত পড়ে ফজরের জন্য বের হলেন। এই হাদিসে কিরাআত, ওজু, জামাতে দাঁড়ানোর আদব এবং ফজরের সুন্নতের সংক্ষিপ্ততা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাহাজ্জুদের আগে সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াতের বর্ণনা এসেছে।
- সালাতের আগে সুন্দরভাবে ওজু করা হয়েছে।
- একজন অনুসারী ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে—এ শিক্ষা আছে।
- ফজরের আগে হালকা দুই রাকআত সালাতের কথাও এসেছে।
