১০/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫২৩ - কবর আযাব থেকে আশ্রয় ও গ্রহণের সালাত
সূর্য গ্রহণের সালাতে কবরের আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া।
কবর আযাব থেকে আশ্রয়: গ্রহণের সালাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫২৩
حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ أَنَّ يَهُودِيَّةً جَاءَتْ تَسْأَلُهَا، فَقَالَتْ لَهَا: أَعَاذَكِ اللهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائَشَةُ، رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَيُعَذَّبُ النَّاسُ فِي قُبُورِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَائِذًا بِاللهِ مِنْ ذلِكَ ثُمَّ رَكِبَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ذَاتَ غَدَاةٍ مَرْكَبًا، فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَرَجَعَ ضُحًى، فَمَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَيْنَ ظَهْرَانَي الْحُجَرِ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، وَقَامَ النَّاسُ وَرَاءَهُ، فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرُّكوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ، ثُمَّ قَامَ، فَقَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرَّكوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَكَعَ رُكوعًا طَويلاً، وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ وَانْصَرَفَ، فَقَالَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ، ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَتَعَوَّذوا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞেস করতে এলো। সে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলল, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন। অতঃপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেয়া হবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তা হতে আল্লাহ্র নিকট পানাহ চাই।পরে কোন এক সকালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। অতঃপর তিনি সলাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন পরে মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে এ কিয়াম পূর্বের কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল।অতঃপর আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে এ রুকূ‘ পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকূ‘ করলেন। এ রুকূ‘ প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার রুকূ‘ করলেন এবং তা প্রথম রাক‘আতের রুকূ‘র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সাজদাহ্য় গেলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহ্র যা ইচ্ছে তিনি তা বললেন এবং কবর আযাব হতে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকদের নির্দেশ দেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১৬ : সূর্য গ্রহণ, অধ্যায় ৭, হাঃ ১০৪৯-১০৫০;মুসলিম, পর্ব ১০ : সূর্য গ্রহণের সালাত, অধ্যায় ২, হাঃ ৯০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি বিষয় এসেছে। প্রথমে এক ইয়াহুদী মহিলা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে কবর আযাব থেকে রক্ষার দো‘আ করে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলেন। পরে সূর্যগ্রহণ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم) ফিরে এসে দীর্ঘ কিয়াম, রুকূ‘ ও সিজদাহসহ সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বললেন এবং উপস্থিত লোকদের কবর আযাব থেকে আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দিলেন। তাই এই হাদিস কবর আযাব, দো‘আ এবং সালাতুল কুসূফ—তিনটি বিষয়ে সরাসরি শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবর আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- গ্রহণের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ সালাত আদায় করেছেন।
- দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে সাহাবীরা প্রশ্ন করতেন।
- সালাতের পর মানুষকে প্রয়োজনীয় নসীহত দেওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি ছিল।
