৩/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৮৬ - কবরের পরীক্ষা ও ঈমানের সত্য জবাব
হাত ও মাথার ইশারায় মাসআলার জবাব দান।
কবরের পরীক্ষা: ঈমান, জবাব ও সত্য অনুসরণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৮৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮৬
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ أَتَيْتُ عَائِشَةَ وَهِيَ تُصَلِّي فَقُلْتُ مَا شَأْنُ النَّاسِ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ، فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ. قُلْتُ آيَةٌ فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا، أَىْ نَعَمْ، فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلاَّنِي الْغَشْىُ، فَجَعَلْتُ أَصُبُّ عَلَى رَأْسِي الْمَاءَ، فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ النَّبِيُّ ﷺ وَأَثْنَى عَلَيْهِ،ثُمَّ قَالَ " مَا مِنْ شَىْءٍ لَمْ أَكُنْ أُرِيتُهُ إِلاَّ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، فَأُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي قُبُورِكُمْ، مِثْلَ ـ أَوْ قَرِيبًا لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، يُقَالُ مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ ـ أَوِ الْمُوقِنُ لاَ أَدْرِي بِأَيِّهِمَا قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى، فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعْنَا، هُوَ مُحَمَّدٌ. ثَلاَثًا، فَيُقَالُ نَمْ صَالِحًا، قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُوقِنًا بِهِ، وَأَمَّا الْمُنَافِقُ ـ أَوِ الْمُرْتَابُ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ
আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-র নিকট আসলাম, তিনি তখন সালাত রত ছিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কী হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতুল কুসূফ এর জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা দিয়ে ইঙ্গিত করলেন, ‘হ্যাঁ।’অতঃপর আমি (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি (দীর্ঘতার কারণে) আমার জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হল। তাই আমি আমার মাথায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। পরে নবী (ﷺ) আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন। অতঃপর বললেনঃ যা কিছু আমাকে ইতোপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নামও। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট ওহী প্রেরণ করলেন, ‘দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরীক্ষা অথবা তাঁর কাছাকাছি বিপদ দিয়ে তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষায় ফেলা হবে।’ ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আসমা (রাঃ) مِثْلُ (অনুরূপ) শব্দ বলেছিলেন, না قَرِيْبُ (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার মনে নেই।(কবরের মধ্যে) বলা হবে, ‘এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান?’ তখন মু’মিন ব্যক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যক্তি [ফাতিমা (রাঃ) বলেন ] আসমা (রাঃ) এর কোন শব্দটি বলেছিলেন আমি জানিনা], বলবে, তিনি মুহাম্মাদ (ﷺ), তিনি আল্লাহর রাসূল। আমাদের নিকট মু’জিযা ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর ইততিবা’ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মাদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে, আরামে ঘুমিয়ে থাক, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর উপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমা বলেন, আসমা কোনটি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় সালাত, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খুতবা এবং কবরের পরীক্ষার কথা এসেছে। তিনি জানালেন, তাঁকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়েছে এবং ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে মানুষকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। প্রশ্ন হবে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী জান? মুমিন ব্যক্তি বলবে, তিনি মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم), আল্লাহর রসূল; তিনি স্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন, আমরা তা গ্রহণ করেছি ও অনুসরণ করেছি। আর মুনাফিক বা সন্দেহকারী বলবে, আমি জানি না; মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম। এই হাদিস দেখায়, শুধু মুখে বলা যথেষ্ট নয়; জেনে, মেনে ও অনুসরণ করে ঈমানকে জীবনে ধরে রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরে রাসূল (صلى الله عليه وسلم) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে—এ কথা হাদিসে এসেছে।
- মুমিন ব্যক্তি জ্ঞান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সত্য জবাব দেবে।
- শুধু মানুষের মুখে শুনে বলা সন্দেহের অবস্থাকে দূর করে না।
- হিদায়াত গ্রহণ ও অনুসরণ করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
