১১/৯. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৩৫ - জীবিতের কান্না ও মৃতের আযাব
মৃতের উপর পরিবার-পরিজনের ক্রন্দনের কারণে আযাব হয়ে থাকে।
জীবিতের বিলাপ ও মৃতের আযাব: ‘উমার (রাঃ)-এর স্মরণ করানো
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫৩৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫৩৫
حديث عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِي مُوسى، قَالَ: لَمَّا أُصِيبَ عُمَرُ رضي الله عنه، جَعَلَ صُهَيْبٌ يَقُولُ: وَاأَخَاهْ فَقَالَ عُمَرُ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন ‘উমার (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আজাব দেয়া হয়?
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৩: জানাযা, অধ্যায় ৩২, হাঃ ১২৯০; মুসলিম, পর্ব ১১: জানাযা, অধ্যায় ৯, হাঃ ৯২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘উমার (রাঃ) আহত হওয়ার পরের ঘটনা এসেছে। সুহাইব (রাঃ) শোকে বলছিলেন, হায় আমার ভাই! তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, জীবিতদের কান্নার কারণে মৃতদের আযাব দেওয়া হয়। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, শোকের সময় আবেগ থাকলেও বিলাপের সীমা আছে। অন্য বর্ণনা অনুযায়ী, স্বাভাবিক কান্না ও অন্তরের কষ্টের জন্য শাস্তি নয়; বরং জিহ্বা দিয়ে সীমা ছাড়ানো বিলাপের বিষয়ে সতর্কতা এসেছে। তাই মুমিনের শোক হবে ধৈর্য, দো‘আ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার মধ্যে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় বিলাপ থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা কঠিন সময়েও স্মরণ করতেন।
- স্বাভাবিক দুঃখ থাকলেও জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
- মৃতের জন্য উত্তম হলো দো‘আ, সীমাহীন বিলাপ নয়।
