১২/১০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৯ - সম্পদ জমা করা নিয়ে সতর্কতা
যারা ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করে তাদের শাস্তির ভয়াবহতা।
সম্পদ জমা করা: আবূ যার (রাঃ)-এর সতর্ক বার্তা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫৭৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫৭৯
حديث أَبِي ذَرٍّ عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: جَلَسْتُ إِلَى مَلإٍ مِنْ قُرَيْشٍ، فَجَاءَ رَجُلٌ خَشِنُ الشَّعَرِ وَالثِّيَابِ وَالْهَيْئَةِ، حَتَّى قَامَ عَلَيْهِمْ فَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: بَشِّرِ الْكَانِزِينَ بِرَضْفٍ يُحْمَى عَلَيْهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ، ثُمَّ يُوضَعُ عَلَى حَلَمَةِ ثَدْيِ أَحَدِهِمْ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ [ص: 203] نُغْضِ كَتِفِهِ، وَيُوضَعُ عَلَى نُغْضِ كَتِفِهِ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ حَلَمَةِ ثَدْيِهِ يَتَزَلْزَلُ ثُمَّ وَلَّى فَجَلَسَ إِلَى سَارِيَةٍ وَتَبِعْتُهُ وَجَلَسْتُ إِلَيْهِ، وَأَنَا لاَ أَدْرِي مَنْ هُوَ؛فَقُلْتُ لَهُ: لاَ أُرَى الْقَوْمَ إِلاَّ قَدْ كَرِهُوا الَّذِي قُلْتَ، قَالَ: إِنَّهُمْ لاَ يَعْقِلُونَ شَيْئًا، قَالَ لِي خَلِيلِي قَالَ: قُلْتُ مَنْ خَلِيلُكَ قَالَ: النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا ذَرٍّ أَتُبْصِرُ أُحُدًا قَالَ: فَنَظَرْتُ إِلَى الشَّمْسِ مَا بَقِيَ مِنَ النَّهَارِ،وَأَنَا أُرَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يرْسِلُنِي فِي حَاجَةٍ لَهُ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا أُنْفِقُهُ كُلَّهُ إِلاَّ ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ وَإِنَّ هؤُلاَءِ لاَ يَعْقِلُونَ، إِنَّمَا يَجْمَعُونَ الدُّنْيَا، لاَ وَاللهِ لاَ أَسْأَلُهُمْ دُنْيَا، وَلاَ أَسْتَفْتِيهِمْ عَنْ دِينٍ حَتَّى أَلْقَى اللهَ
আহনাফ ইব্নু কায়স (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি কুরাইশ গোত্রীয় একদল লোকের সাথে বসেছিলাম, এমন সময় রুক্ষ চুল, মোটা কাপড় ও খসখসে শরীর বিশিষ্ট এক ব্যক্তি তাদের নিকট এসে সালাম দিয়ে বললো, যারা সম্পদ জমা করে রাখে তাদেরকে এমন গরম পাথরের সংবাদ দাও, যা তাদেরকে শাস্তি প্রদানের জন্য জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। তা তাদের স্তনের বোঁটার উপর স্থাপন করা হবে আর তা কাঁধের পেশী ভেদ করে বের হবে এবং কাঁধের চিকন হাড্ডির ওপর স্থাপন করা হবে, তা নড়াচড়া করে সজোরে স্তনের বোঁটা ছেদ করে বের হবে।এরপর লোকটি ফিরে গিয়ে একটি স্তম্ভের পাশে বসল। আমিও তাঁর অনুগমন করলাম ও তাঁর কাছে বসলাম। অথচ আমি জানতাম না সে কে। আমি তাঁকে বললাম, আমার মনে হয় যে, আপনার বক্তব্য লোকেরা পছন্দ করেনি। তিনি বললেন, তারা কিছুই বুঝে না। কথাটি আমাকে আমার বন্ধু বলেছেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, আপনার বন্ধু কে? সে বলল, তিনি হলেন নবী (ﷺ)।তিনি আমাকে বলেন, হে আবূ যার! তুমি কি উহুদ পাহাড় দেখেছ? তিনি বলেন, তখন আমি সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দিনের কতটুকু অংশ বাকি রয়েছে। আমার ধারণা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর কোন প্রয়োজনে আমাকে পাঠাবেন। আমি জবাবে বললাম, জী-হাঁ। তিনি বললেনঃ আমি পছন্দ করি না যে আমার জন্য উহুদ পর্বত পরিমাণ স্বর্ণ হোক আর তা সমুদয় আমি নিজের জন্য ব্যয় করি তিনটি দীনার ব্যতীত। [আবূ যার (রাঃ) বলেন] তারা তো বুঝে না, তারা শুধু দুনিয়ার সম্পদই একত্রিত করছে। আল্লাহর কসম, না! না! আমি তাদের নিকট দুনিয়ার কোন সম্পদ চাই না এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত দ্বীন সম্পর্কেও তাদের নিকট কিছু জিজ্ঞেস করবো না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ও, হাঃ ১৪০০-১৪০৮; মুসলি, ‘পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ১০, হাঃ ৯৯২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ)-এর একটি শক্ত সতর্কবার্তা এসেছে। তিনি সম্পদ জমা করে রাখা লোকদের জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথরের কথা বলেন। পরে তিনি জানান, এ কথা তাঁর বন্ধু নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে উহুদ পাহাড় দেখিয়ে বলেছিলেন, তিনি পছন্দ করেন না যে উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ তাঁর থাকুক এবং তা তিনি নিজের জন্য রেখে দেন, তিন দীনার ছাড়া। আবূ যার (রাঃ) বলেন, মানুষ দুনিয়ার সম্পদ জমা করছে, অথচ তারা বুঝে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো সম্পদ জমা করে রাখার ঝুঁকি এবং সম্পদ ব্যয়ের গুরুত্ব। হাদিসের ভাষা সতর্ককারী, তাই এটিকে হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ জমা করে রাখার বিষয়ে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم উহুদ পরিমাণ সোনা নিজের কাছে রাখতে পছন্দ করেননি।
- দুনিয়ার সম্পদ জমা করাই জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
- আবূ যার (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم থেকে পাওয়া শিক্ষা সাহসের সঙ্গে বলেছেন।
