১৩/৮. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৬৪ - রাতের আযান ও সুবহে সাদিক
ফজর উদিত হওয়ার সাথে সাথে সাওম শুরু হয়, ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য কাজ চলবে এবং ফজর সালাতের শুরু ইত্যাদির বর্ণনা।
সুবহে সাদিকের আগে বিলালের আযান: সাহরীর সহজ বুঝ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৬৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৬৪
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَوْ أَحَدًا مِنْكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ مِنْ سَحُورِهِ، فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ أَوْ يُنَادِي بِلَيْلٍ لِيَرْجِعَ قَائمَكُمْ وَلِيُنَبِّهَ نَائمَكُمْ، وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقُولَ الْفَجْرُ أَوِ الصُّبْحُ وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ وَرَفَعَهَا إِلَى فَوْقُ وَطَأْطأَ إِلَى أَسْفَلُ حَتَّى يَقولَ هكَذَا
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদেরকে জাগিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি বললেনঃ ফজর বা সুবহে সাদিক বলা যায় না- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনÑ যতক্ষণ না এরূপ হয়ে যায়।*
* (পূর্ব দিকে প্রথমে খাড়া আলোক-রেখা দেখা যায় এই আলোক রেখা প্রকৃত ফজর নয়। পূর্ব দিকে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত আলোক রেখাই প্রকৃত ফজরের সময়।) - সহীহুল বুখারী, পর্ব ১০ : আযান, অধ্যায় ১৩, হাঃ ৬২১; মুসলিম, পর্ব ১৩; সওম, অধ্যায় ৮, হাঃ ১০৯৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূল صلى الله عليه وسلم পরিষ্কার করে বলেছেন, বিলাল (রাঃ)-এর আযান যেন কাউকে সাহরী থেকে বিরত না রাখে। কারণ তিনি রাত থাকতে আযান দিতেন। সেই আযানের উদ্দেশ্য ছিল যারা তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে আছে তাদের ফিরিয়ে আনা এবং যারা ঘুমিয়ে আছে তাদের জাগিয়ে দেওয়া। এরপর রাসূল صلى الله عليه وسلم ফজর বা সুবহে সাদিকের ব্যাপারটি ইশারার মাধ্যমে বোঝান। এতে বোঝা যায়, সাহরী বন্ধের সময় কোনো আগের সতর্কতামূলক আযান নয়; বরং ফজরের সত্যিকারের সময়। ‘সুবহে সাদিক’ ও ‘সাহরীর শেষ সময়’ নিয়ে যারা জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস খুব উপকারী। এতে রাতের আযানের উদ্দেশ্য এবং রোজার সময়ের সীমা আলাদা করে বুঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিলাল (রাঃ)-এর আযান সাহরী বন্ধের আযান ছিল না।
- রাতের আযান ঘুমন্তকে জাগানো ও তাহাজ্জুদকারীদের সতর্ক করার জন্য ছিল।
- সুবহে সাদিক শুরু হলে সাহরীর সময় শেষ হয়।
