১৫/১৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৫৭ - হায়েজে তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের কাজ
ইহরামের প্রকারভেদ, আর তা হজ্জে ইফরাদ এবং তামাত্তু এবং কিরান এবং হজ্জ ও উমরাহকে যুক্ত করা বৈধ এবং হজ্জ কারেন আদায়কারী কখন তার ইহরাম থেকে হালাল হবে।
হায়েজ অবস্থায় হজ্জ: তাওয়াফ ছাড়া বাকি কাজের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭৫৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭৫৭
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَبْكِي، قَالَ: مَا لَكِ، أَنُفِسْتِ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: إِنَّ هذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاقْضِى مَا يَقْضِى الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ قَالَتْ: وَضَحَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা হজের উদ্দেশেই (মদীনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়য আসলো। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ কী হলো তোমার? তোমার হায়য এসেছে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা‘আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ ছাড়া হজের বাকী সব কাজ করে যাও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬: হায়য, অধ্যায় ১, হাঃ ২৯৪; মুসলিম ১৫ : হাজ, অধ্যায় ১৭, হাঃ ১২১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশা রাঃ বলেন, তারা হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর তাঁর হায়েজ শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছে? তিনি বলেন, হায়েজ এসেছে। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এটি আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি তাঁকে নির্দেশ দেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হাজীরা যা করে, তুমি সেগুলো করে যাও। এই হাদিস নারীদের জন্য খুব দরকারি একটি শিক্ষা দেয়। হায়েজ কোনো লজ্জার বিষয় নয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়। তবে তাওয়াফের ব্যাপারে আলাদা বিধান আছে। হাদিসের শেষে ‘আয়িশা রাঃ বলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গাভী কুরবানী করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক বিষয়—এ নিয়ে অযথা ভেঙে পড়ার দরকার নেই।
- হায়েজ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা হবে না।
- তাওয়াফ ছাড়া হাজীদের অন্যান্য কাজ করার নির্দেশ এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم ‘আয়িশা রাঃ-কে সান্ত্বনা দিয়ে বাস্তব নির্দেশনা দিয়েছেন।
