১৫/১৭. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৫৫ - হজ্জ-উমরাহ ও হায়েজের বিধান
ইহরামের প্রকারভেদ, আর তা হজ্জে ইফরাদ এবং তামাত্তু এবং কিরান এবং হজ্জ ও উমরাহকে যুক্ত করা বৈধ এবং হজ্জ কারেন আদায়কারী কখন তার ইহরাম থেকে হালাল হবে।
হায়েজ অবস্থায় হজ্জ: আয়িশা রাঃ-এর ঘটনায় হজ্জ-উমরাহর শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭৫৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭৫৫
حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص: 38] فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ، ثُمَّ لاَ يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَميعًا فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ، وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ،فَشَكَوْتُ ذلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: انْقُضِى رَأْسَكِ، وَامْتَشِطِى وَأَهِلِّى بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ: هذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ قَالَتْ: فَطَافَ الَّذِينَ كَانُوا أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالمَرْوَةِ، ثُمَّ حَلُّوا، ثُمَّ طَافُوا طَوافًا وَاحِدًا بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى وَأَمَّا الَّذيِنَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوافًا وَاحِدًا
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নাবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী হতে বর্ণিতঃ
আমরা বিদায় হজের সময় নবী (ﷺ)-এর সাথে বের হয়ে ‘উমরাহ’র নিয়তে ইহরাম বাঁধি। নবী (ﷺ) বললেনঃ যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে যেন ‘উমরাহ’র সাথে হজের ইহ্রামও বেঁধে নেয়। অতঃপর সে ‘উমরাহ ও হজ উভয়টি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল হতে পারবে না।[‘আয়িশা (রাঃ) বলেন] এরপর আমি মাক্কায় ঋতুবতী অবস্থায় পৌঁছলাম। কাজেই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা‘য়ী কোনটিই আদায় করতে সমর্থ হলাম না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে আমার অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ মাথার চুল খুলে নাও এবং তা আঁচড়িয়ে নাও এবং হজের ইহ্রাম বহাল রাখ এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দাও। আমি তাই করলাম, হজ সম্পন্ন করার পর আমাকে নবী (ﷺ) ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বাক্র (রাঃ)-এর সঙ্গে তান‘ঈম-এ প্রেরণ করেন। সেখান হতে আমি ‘উমরাহ’র ইহ্রাম বাঁধি। নবী (ﷺ) বলেনঃ এ তোমার (ছেড়ে দেয়া) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী।‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, যাঁরা ‘উমরাহ’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, তাঁরা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যান এবং মিনা হতে ফিরে আসার পর দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন আর যাঁরা হজ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিলেন তাঁরা একটি মাত্র তাওয়াফ করেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৩১, হাঃ ১৫৫৬; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ১৭, হাঃ ১২১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের সময় ‘আয়িশা রাঃ-এর ঘটনা এসেছে। তাঁরা প্রথমে ‘উমরাহর নিয়তে ইহরাম বাঁধেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যার সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে সে ‘উমরাহর সঙ্গে হজ্জের ইহরামও বাঁধবে এবং উভয়টি শেষ না করা পর্যন্ত হালাল হবে না। ‘আয়িশা রাঃ মাক্কায় পৌঁছে ঋতুবতী হন, তাই তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা‘য়ী করতে পারেননি। তিনি বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-কে জানালে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে মাথার চুল খুলে আঁচড়াতে, হজ্জের ইহরাম বহাল রাখতে এবং ‘উমরাহ ছেড়ে দিতে বলেন। হজ্জ শেষ হলে তাঁকে তানঈম থেকে ‘উমরাহ করতে পাঠানো হয়। এই হাদিস হায়েজ অবস্থায় হজ্জের বাস্তব নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজের কারণে ‘আয়িশা রাঃ তাওয়াফ ও সা‘য়ী করতে পারেননি।
- নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে হজ্জের ইহরাম বহাল রাখতে নির্দেশ দেন।
- ছেড়ে দেওয়া ‘উমরাহর বদলে তাঁকে পরে তানঈম থেকে ‘উমরাহ করানো হয়।
- হজ্জ-উমরাহর কাজে কুরবানীর পশু সঙ্গে থাকা বা না থাকার বিষয়টি প্রভাব ফেলে।
