১৫/৮৫. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬৪ - মাদীনার বরকত ও উহুদের ভালোবাসা

মাদীনার মর্যাদা, সেখানকার মাল-সম্পদে বরকতের জন্য নবী (ﷺ)-এর দোয়া, সে স্থান হারাম হওয়া, সেখানে শিকার করা, বৃক্ষ কর্তন করা নিষিদ্ধ এবং এর হারামের সীমারেখা।

মাদীনার বরকত ও উহুদ পাহাড়ের ভালোবাসা: আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৬৪

حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأبِي طَلْحَةَ الْتَمِسْ غُلاَمًا مِنْ غِلْمَانِكُمْ يَخْدُمُنِي فَخَرَجَ أَبُو طَلْحَةَ يُرْدِفنِي وَرَاءَهُ، فَكُنْتُ أَخْدُمُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلَّمَا نَزَلَ، فَكُنْتُ أَسْمَعُهُ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ: اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِفَلَمْ أَزَلْ أَخْدُمُهُ حَتَّى أَقْبَلْنَا مِنْ خَيْبَرَ، وَأَقْبَلَ بِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ، قَدْ حَازَهَا، فَكُنْتُ أَرَاهُ يُحَوِّى وَرَاءَهُ بِعَبَاءَةٍ أَوْ بِكِسَاءٍ، ثُمَّ يُرْدِفُهَا وَرَاءَهُ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالصَّهْبَاءِ صَنَعَ حَيْسًا فِي نِطَعٍ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَدَعَوْتُ رِجَالاً فَأَكَلُوا، وَكَانَ ذَلِكَ بِنَاءَهُ بِهَا ثُمَّ أَقْبَلَ [ص: 82] حَتَّى إِذَا بَدَا لَهُ أُحُدٌ؛ قَالَ: هذَا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ فَلَمَّا أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ: اللهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ جَبَلَيْهَا مِثْلَ مَا حَرَّمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ، اللهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ وَصَاعِهِمْ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) আবূ ত্বলহাকে বলেন, তোমাদের ছেলেদের মধ্য থেকে একটি ছেলে খুঁজে আন, যে আমার খেদমত করতে পারে। এমনকি তাকে আমি খায়বারেও নিয়ে যেতে পারি। অতঃপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) আমাকে তার সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিয়ে চললেন। আমি তখন প্রায় সাবালক। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর খেদমত করতে লাগলাম। তিনি যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দু‘আ পড়তে শুনতামঃ ‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার নিকট পানাহ চাচ্ছি।’পরে আমরা খায়বারে গিয়ে হাজির হলাম। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তাঁর নিকট সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই ইব্‌নু আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হলো, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। আমরা যখন সাদ্দুস্ সাহ্বা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যাহ (রাঃ) হায়েয থেকে পবিত্র হন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেন। অতঃপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে ‘হায়সা’ প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। এই ছিল আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমাহ।অতঃপর আমরা মাদীনাহ্‌র দিকে রওয়ানা দিলাম। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি দেখতে পেলাম যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর পেছনে চাদর দিয়ে সাফিয়্যাহ্‌কে পর্দা করছেন। উঠানামার প্রয়োজন হলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর উটের কাছে হাঁটু বাড়িয়ে বসতেন, আর সাফিয়্যাহ (রাঃ) তাঁর উপর পা রেখে উটে আরোহণ করতেন। এভাবে আমরা মাদীনাহ্‌র নিকটবর্তী হলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উহুদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এটি এমন এক পর্বত যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। অতঃপর মাদীনাহ্‌র দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, এই কঙ্করময় দুইটি ময়দানের মধ্যবর্তী স্থানকে আমি ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করছি, যেমন ইব্রাহীম (আঃ) মাক্কাহকে ‘হারাম’ ঘোষণা করেছিলেন। হে আল্লাহ্! আপনি তাদের মুদ এবং সা‘তে বরকত দান করুন।’

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭০: খাওয়া-খাদ্য, অধ্যায় ২৮, হাঃ ২৮৯৩; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৮৫, হাঃ ১৩৬৫

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে কয়েকটি বিষয় এসেছে, তবে মূলভাবে মাদীনার বরকত ও সম্মান খুব স্পষ্ট। আনাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর খেদমতে ছিলেন এবং তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-কে বারবার একটি দু‘আ পড়তে শুনতেন: দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণভার ও মানুষের প্রাধান্য থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। এরপর খায়বার থেকে ফেরার পথে সাফিয়্যাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওয়ালিমাহর কথা এসেছে। মাদীনার কাছে এসে তিনি উহুদ পাহাড় সম্পর্কে বলেন, এটি আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসি। এরপর মাদীনার দুই কঙ্করময় এলাকার মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করেন এবং মুদ ও সা‘তে বরকতের দু‘আ করেন। তাই এই হাদিসে মাদীনার ফজিলত, নবী صلى الله عليه وسلم-এর দু‘আ, পরিবারের প্রতি কোমলতা এবং উহুদের ভালোবাসা একসাথে দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দুশ্চিন্তা, ঋণভার ও অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল।
  • নবী صلى الله عليه وسلم মাদীনার সীমাকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন।
  • মাদীনাবাসীর মুদ ও সা‘তে বরকতের জন্য দু‘আ করা হয়েছে।
  • উহুদ পাহাড় সম্পর্কে নবী صلى الله عليه وسلم ভালোবাসার কথা বলেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন