১/৬৩. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৮ - ফিতনা ও বন্ধ দরজার শিক্ষা

ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং তা অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে আর তা দুই মসজিদের মাঝে ফিরে যাবে।

ফিতনা সম্পর্কে হাদিস: ছোট পরীক্ষা ও বড় অস্থিরতার সতর্কতা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৮

حديث حُذَيْفَةَ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ رضي الله عنه فَقَالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ: أَنَا كَمَا قَالَهُ، قَالَ: إِنَّكَ عَلَيْهِ أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ؛ قُلْتُ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ، قَالَ: لَيْسَ هذَا أُرِيدُ وَلكِنْ الْفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ الْبَحْرُ، قَالَ: لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا، قَالَ: أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ: يُكْسَرُ، قَالَ: إِذًا لاَ يُغْلَقُ أَبَدًاقُلْنَا: أَكَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ الْبَابَ قَالَ نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الْغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالأَغَالِيطِفَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ؛ فَقَالَ: الْبَاب عُمَرُ

হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমরা ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনাহ-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, ‘যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি।’ ‘উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনাহয় পতিত হয়, সালাত, সিয়াম, সাদকাহ, (ন্যায়ের) আদেশ ও (অন্যায়ের) নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।হযরত ‘উমর (রাঃ) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনাহর কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনাহর মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। ‘উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেয়া হবে? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তাহলে তো আর কোনো দিন তা বন্ধ করা যাবে না।[হুযাইফাহ (রাঃ)-এর ছাত্র শাকীক (রহঃ) বলেন], আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘উমর (রাঃ) কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, হাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাঁর কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ত্রুটিযুক্ত নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফাহ (রাঃ)-এর নিকট জানতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক (রহঃ) কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি ‘উমর (রাঃ) নিজেই।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯ : সালাতের সময়সমূহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ৫২৫; মুসলিম, পর্ব ১: ঈমান, অধ্যায় ৬৫, হাঃ ১৪৪

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফিতনা বিষয়ে উমর রাঃ ও হুযাইফাহ রাঃ-এর কথোপকথন এসেছে। প্রথমে হুযাইফাহ রাঃ বলেন, মানুষ নিজের পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে যে ফিতনায় পড়ে, সালাত, সিয়াম, সদাকা, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ তা দূর করে দেয়। কিন্তু উমর রাঃ জানতে চান সেই বড় ফিতনার কথা, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো হবে। তখন বলা হয়, তার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। পরে জানা যায়, দরজাটি ছিলেন উমর রাঃ নিজেই। এই হাদিসে ছোট ব্যক্তিগত পরীক্ষা এবং বড় সামাজিক অস্থিরতা—দুই ধরনের ফিতনার কথা এসেছে। তাই ইবাদত, সৎকাজ এবং সতর্কতা মানুষের জন্য বড় আশ্রয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • পরিবার, সম্পদ ও সন্তান মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে।
  • সালাত, সিয়াম, সদাকা ও নেক কাজ পাপ মুছে দেয়ার কারণ।
  • বড় ফিতনা সমাজে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • সাহাবিরা ফিতনা সম্পর্কে খুব সতর্ক ছিলেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন