২০/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৮ - অংশীদার দাস মুক্তির বিধান
ইতক (মুক্তি)
শরীক ক্রীতদাস মুক্তি: ন্যায্য মূল্য ও দায়িত্বের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৫৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৫৮
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ، فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ، قُوِّمَ الْعَبْدُ قِيمَةَ عَدْلٍ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ، وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি কোন ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৯ : ক্রীতদাস আযাদ করা, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৫২২; মুসলিম, পর্ব ২০: ইতক (মুক্তি), হাঃ ১৫০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ক্রীতদাস মুক্তি এবং অংশীদারদের অধিকার। রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যদি কোনো ক্রীতদাসের নিজের অংশ মুক্ত করে এবং তার কাছে পুরো ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। তারপর অন্য শরীকদের তাদের অংশের মূল্য পরিশোধ করা হবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ থেকে পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি তার কাছে এত অর্থ না থাকে, তবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে, ততটুকুই মুক্ত হবে। হাদিসটি আমাদের ন্যায়বোধ শেখায়। একদিকে মুক্তির কাজকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে শরীকদের প্রাপ্য অধিকারও রক্ষা করা হয়েছে। এতে দান, ন্যায়, সামর্থ্য এবং দায়িত্ব—সব একসঙ্গে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রীতদাস মুক্তির কাজে ন্যায়সঙ্গত মূল্য নির্ধারণের শিক্ষা আছে।
- সামর্থ্য থাকলে নিজের অংশ মুক্ত করে পূর্ণ মুক্তির দায় নিতে হয়।
- অন্য শরীকদের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করা যাবে না।
- সৎ কাজেও ন্যায়বিচার বজায় রাখা জরুরি।
