২০/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৯ - গোলাম আযাদে ন্যায় ও সহজতা
গোলামকে মুক্তিপণের অর্থ উপার্জনের সুযোগ দান।
গোলাম আযাদ করার হাদিস: ন্যায়, সামর্থ্য ও কষ্ট না দেওয়া
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৫৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৫৯
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكِهِ فَعَلَيْهِ خَلاَصُهُ فِي مَالِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ الْمَمْلُوكُ قِيمَةَ عَدْلٍ، ثُمَّ اسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ তার (শরীক) গোলাম হতে অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৭ : অংশীদারিত্ব, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৪৯২; মুসলিম, পর্ব ২০: ইতক (মুক্তি), অধ্যায় ১, হাঃ ১৫০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ক্রীতদাস মুক্তির একই মূল বিষয়ে আরেকটি দিক এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ তার শরীক গোলামের অংশ আযাদ করলে তার নিজের অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করার দায়িত্ব পড়ে। যদি তার যথেষ্ট অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য তাকে উপার্জনে যেতে হবে, কিন্তু তার ওপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না। এই শেষ অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে অধিকার আদায়ের কথা আছে, কিন্তু মানুষকে ভেঙে দেওয়ার মতো চাপ দেওয়ার কথা নেই। হাদিসটি ন্যায় ও সহজতার সুন্দর মিল দেখায়। গোলাম আযাদ একটি মহৎ কাজ, তবে তা করতে গিয়ে অংশীদারদের অধিকার, মুক্তির বাস্তবতা এবং ব্যক্তির সামর্থ্য—সব দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোলাম আযাদে নিজের দায়িত্ব ও সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
- ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে অন্যদের অধিকার রক্ষা করা হয়।
- অর্থ না থাকলে উপার্জনের কথা এসেছে, তবে অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
- ইসলামী নির্দেশে ন্যায় ও সহজতা একসঙ্গে থাকে।
