৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০১৩-[৩৬] - সালাতে সালামের জবাবের আদব
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে সালামের জবাব কীভাবে দেবেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০১৩-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০১৩-[৩৬]
وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: إِنَّ عَبْدَ اللّهِ بْنَ عُمَرَ مَرَّ عَلى رَجُلٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ الرَّجُلُ كَلَامًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَالَ لَه: إِذَا سُلِّمَ عَلى أحَدِكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلَا يَتَكَلَّمْ وَلْيُشِرْ بِيَدِه. رَوَاهُ مَالك
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গমন করলেন, তখন সে সালাত আদায় করছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তাকে সালাম প্রদান করলেন। সে ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর সালামের উত্তর স্বশব্দে দিলো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, তোমাদের কোন লোককে সালাতরত অবস্থায় সালাম দেয়া হলে তার উত্তর স্বশব্দে দিতে নেই, বরং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করবে। (মালিক) [১]
[১] সহীহ : মালিক ৪০৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০১৩-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়ার আদব শেখানো হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এক ব্যক্তিকে সালাতরত অবস্থায় সালাম দিলেন। সে ব্যক্তি স্বশব্দে জবাব দিল। তখন ইবনু উমর (রাঃ) ফিরে গিয়ে বললেন, সালাতে থাকাকালে কাউকে সালাম দেওয়া হলে সে যেন কথা না বলে, বরং হাত দিয়ে ইশারা করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সালাতের মধ্যে সাধারণ কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সালাম একটি ভালো আমল হলেও সালাতের নিজস্ব নিয়ম আছে। তাই নামাজে দাঁড়িয়ে মুখে উত্তর না দিয়ে ইশারায় জবাব দেওয়া হয়। এতে সালামের সম্মানও থাকে এবং সালাতের নীরবতা ও মনোযোগও নষ্ট হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের মধ্যে মুখে সালামের জবাব দেওয়া উচিত নয়।
- হাতের ইশারায় জবাব দেওয়া সালাতের আদবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- সালাতের সময় কথা বলা থেকে বাঁচা দরকার।
- ইবাদতের নিয়ম মেনে ভালো কাজও সঠিকভাবে করতে হয়।
