৪/২৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৬১-[১০] - সুগন্ধি মেখে ইশার জামাতে না যাওয়া

জামাত ও তার ফজিলত সম্পর্কে - প্রথম অনুচ্ছেদ

জেনে রাখা দরকার যে, জামা‘আতে সালাতের বিধান কখন থেকে শুরু হয়েছে তা নিয়ে ‘আলিমদের মতানৈক্য রয়েছে। ইবনু হাজার মাক্কী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, জামা‘আতে সালাতের বিধান মদীনাতে শুরু হয়েছে।শায়খ রিয্ওয়ান বলেনঃ জামা‘আতে সালাতের বিধান মক্কাতেই শুরু হয়েছে। প্রমাণ স্বরূপ তিনি বলেন যে, মি‘রাজের ঘটনার রাতের সকালে তথা ফজরে জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-এবং সাহাবীগণের নিয়ে জামা‘আতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছিলেন এবং নবী (ﷺ) খাদীজাহ্ (রাঃ) ও ‘আলী (রাঃ)-কে নিয়ে মক্কাতে জামা‘আতে সালাত আদায় করেছেন। তবে তা প্রকাশ পায়নি এবং নিয়মিতভাবে মদীনাতেই জামা‘আতে সালাত আদায় করেছেন, তার আগে নয়। এজন্যই বলা হয় যে, মদীনাতে জামা‘আতের বিধান শুরু হয়েছে।জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব নাকি সুন্নাত এ নিয়েও ‘আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন যে, ‘আত্বা, আওযা‘ঈ, আহমাদ, আবূ সাওর, ইবনু খুযায়মাহ্ এবং ইবনুল মুনযির-এর মতে জামা‘আতে সালাত আদায় করা ফারযে ‘আইন।দাঊদ জাহিরী এবং তার অনুসারীদের মতে সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য জামা‘আত শর্ত।ইমাম শাফি‘ঈর মতে জামা‘আতে সালাত আদায় করা ফারযে কিফায়াহ্। এ মত গ্রহণ করেছেন শাফি‘ঈ মাযহাবের পূর্বসুরী ‘আলিমগণ এবং অনেক হানাফী ও মালিকী ‘আলিমগণ।অন্যান্য ‘আলিমদের মতে জামা‘আতে সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্।ইমাম বুখারী জামা‘আতে সালাত আদায় করাকে ফারযে আইন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্র অধ্যায়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত ২নং হাদীসের অধ্যায় রচনা করেছেন এভাবে (باب وجوب صلاة الجماعة) ‘জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গ’। অতঃপর তিনি হাসান বসরী (রহঃ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, তার মা তাকে করুণার বশবর্তী হয়ে ‘ইশার সালাতে জামা‘আতে উপস্থিত হতে বারণ করেন, কিন্তু তিনি তার মায়ের আনুগত্য করেননি। এ থেকে বুঝা যায় যে, জামা‘আতে সালাত আদায় করা ফারযে আইন।আমি (মুবারকপূরী) মনে করি যে, জামা‘আতে সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ হলেও তা ওয়াজিবের কাছাকাছি। যাতে উভয় প্রকারের হাদীসের মধ্যে সমন্বয় হয়।

সুগন্ধি মেখে ইশার জামাতে না যাওয়ার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০৬১-[১০]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَصَابَتْ بَخُورًا فَلَا تَشْهَدْ مَعَنَا الْعشَاءَ الْاخِرَةَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে সব মহিলা সুগন্ধি লাগায় তারা যেন ইশার সালাতে আমাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ না করে। (মুসলিম) [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৪৪৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০৬১-[১০]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নারীদের জন্য একটি স্পষ্ট আদব শিখিয়েছেন। যে নারী সুগন্ধি লাগায়, সে যেন ইশার সালাতে মুসলিম জামা‘আতের সঙ্গে অংশ না নেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মসজিদে যাওয়া ইবাদত হলেও সেখানে শালীনতা, সংযম এবং অন্যের মনোযোগ নষ্ট না করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। হাদিসটি নারীদের মসজিদে যাওয়া একেবারে নিষেধ করছে না; বরং সুগন্ধি লাগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করছে। তাই “নারীর সুগন্ধি”, “ইশার সালাত” এবং “মসজিদের আদব” এই হাদিসের প্রধান বিষয়। একজন মুসলিমের উচিত ইবাদতের জায়গাকে পবিত্রতা, বিনয় ও সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সুগন্ধি লাগিয়ে নারীদের ইশার জামাতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
  • মসজিদে যাওয়ার সময় শালীনতা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
  • ইবাদতের পরিবেশে অন্যের মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলা উচিত।
  • হাদিসটি নারীদের মসজিদে যাওয়া নয়, সুগন্ধি মেখে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন