৪/২৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১০১-[১৭] - প্রথম কাতারের ফজিলত ও কাতার সোজা রাখা
সালাতের কাতার সোজা করা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
প্রথম কাতারের ফজিলত ও কাতার সোজা করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১০১-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১০১-[১৭]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ اللّهَ وَمَلَائِكَتَه يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ» قَالُوا يَا رَسُولَ اللّهِ وَعَلَى الثَّانِي قَالَ: «إِنَّ اللّهَ وَمَلَائِكَتَه يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ» قَالُوا يَا رَسُولَ اللّهِ وَعَلَى الثَّانِي قَالَ: «إِنَّ اللّهَ وَمَلَائِكَتَه يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ» قَالُوا يَا رَسُولَ الله وعَلى الثَّانِىْ؟ قَالَ: «وعَلى الثَّانِىْ» قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: سَوُّوا صُفُوفَكُمْ وَحَاذُوا بَيْنَ مَنَاكِبِكُمْ وَلِيْنُوا فِىْ أَيْدِىْ إِخْوَانِكُمْ وَسُدُّوا الْخَلَلَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ فِيْمَا بَيْنَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْحَذَفِ» يَعْنِىْ أَوْلَادَ الضَّأْنِ الصِّغَارِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সালাতে প্রথম সাড়িতে দাঁড়ানো লোকদের ওপর করুণা বর্ষণ করেন। এ কথা শুনে সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ানো লোকদের ওপর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করলেন, “আল্লাহ ও তাঁর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সালাতের প্রথম কাতারের উপর করুণা বর্ষণ করেন। সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর দ্বিতীয় কাতারের উপর তিনি জবাবে বললেন, দ্বিতীয় কাতারের উপরও।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করলেন : তোমরা তোমাদের সালাতের কাতারগুলোকে সোজা রাখো, কাঁধকে সমান করো, ভাইদের হাতের সাথে হাত নরম করে রাখো। কাতারের মাঝে খালি স্থান ছাড়বে না। তা না হলে শয়তান তোমাদের মাঝে হিজাযী ছোট কালো ছাগলের মতো ঢুকে পড়বে। অর্থাৎ ভেড়ার ছোট বাচ্চা। (আহ্মাদ) [১]
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২২৬৩। কারণ এর সানাদে বর্ণনাকারী ফারাজ বিন ফুযালাহ্-কে সকল মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১০১-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের কাতার সোজা রাখা এবং প্রথম কাতারের ফজিলত স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের লোকদের ওপর করুণা বর্ষণ করেন। সাহাবীগণ দ্বিতীয় কাতারের ব্যাপারে জানতে চাইলে শেষে তিনি দ্বিতীয় কাতারের কথাও উল্লেখ করেন। এরপর তিনি কাতার সোজা করা, কাঁধ সমান রাখা এবং ভাইদের হাতের সাথে নরম থাকার নির্দেশ দেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো জামাআতের সালাতে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও ফাঁক বন্ধ রাখা। কাতারের মাঝে খালি জায়গা রাখা থেকে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ এতে শয়তান মানুষের মাঝে ঢোকার সুযোগ পায়। তাই জামাআতের সালাতে কাতার মিলানো শুধু বাহ্যিক নিয়ম নয়, বরং এটি মনোযোগ, একতা ও আদবের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর বিশেষ ফজিলত আছে।
- সালাতে কাঁধ সমান করে কাতার সোজা রাখা উচিত।
- কাতারের ফাঁক বন্ধ রাখা জামাআতের আদবের অংশ।
- ভাইদের সঙ্গে নরম আচরণ করে কাতার মেলানো দরকার।
