৪/২৫. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১১৩-[৩] - নবীজির সালাত শেখানোর পদ্ধতি

ইমাম ও মুক্তাদির দাঁড়াবার স্থান - প্রথম অনুচ্ছেদ

মিম্বারে দাঁড়িয়ে নবীজির সালাত শেখানোর ঘটনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১১৩-[৩]

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّه سُئِلَ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ الْمِنْبَرُ؟ فَقَالَ: هُوَ مِنْ أَثْلِ الْغَابَةِ عَمِلَه فُلَانٌ مَوْلى فُلَانَةَ لِرَسُولِ اللّهِ ﷺ وَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللّهِ ﷺ حِينَ عُمِلَ وَوُضِعَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَكَبَّرَ وَقَامَ النَّاسُ خَلْفَه فَقَرَأَ وَرَكَعَ وَرَكَعَ النَّاسُ خَلْفَه ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه ثُمَّ رَجَعَ الْقَهْقَرى فَسَجَدَ عَلَى الْأَرْضِ ثُمَّ عَادَ إِلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه ثُمَّ رَجَعَ الْقَهْقَرى حَتّى سجد بِالْأَرْضِ.هذَا لفظ البُخَارِيّ وَفِي الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ نَحْوُه وَقَالَ فِي اخِرِه: فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعْلَمُوا صَلَاتي

সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বার কিসের তৈরি ছিল? তিনি বললেন, জঙ্গলের ঝাউ কাঠের তৈরি ছিল। সেটাকে অমুক মহিলার স্বাধীন করা গোলাম অমুকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্যে তৈরি করেছিলেন। সেটা তৈরি হয়ে গেলে, মসজিদে রাখা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওপর দাঁড়ালেন। কেবলামুখী হয়ে সালাতের জন্য তাকবির তাহরিমা বাঁধলেন। সকলে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি (ﷺ) মিম্বারের উপর হতেই ক্বিরাআত পাঠ করলেন। রুকূ‘ করলেন। অন্যান্য লোকও তাঁর পেছনে রুকূ‘ করলেন।অতঃপর তিনি রুকূ‘ হতে মাথা উত্তোলন করলেন। এরপরে মিম্বার থেকে পা নামিয়ে জমিনে সিজদা করলেন। এরপর পুনরায় তিনি মিম্বারে উঠলেন। কোরআন পড়লেন। রুকূ‘ করলেন রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করলেন, তারপর পেছনে সরে আসলেন এমনকি জমিনে সিজদা করলেন। [এ ভাষা বুখারী (রহঃ)-এর একক; আবার বুখারী মুসলিমের মিলিত বিবরণটা এরূপ। এ হাদীসের বর্ণনাকারী হাদীসের শেষে এ উক্তি পেশ করলেন। যখন তিনি (ﷺ) সালাত হতে অবসর হলেন, তখন বললেন, “আমি এজন্যে এ ‘আমাল করেছি, তোমরা যেন আমার অনুকরণ করো। আমার সালাতের পরিস্থিতি, এর বিধানাবলী জানতে পার।] [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৭৭, ৯১৭, মুসলিম ৫৪৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১১৩-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাত শেখানোর একটি বাস্তব পদ্ধতি দেখা যায়। মিম্বার তৈরি হওয়ার পর তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হলেন, তাকবীর দিলেন, কিরাআত পড়লেন এবং রুকু করলেন। লোকেরাও তাঁর পেছনে রুকু করল। এরপর তিনি নিচে নেমে জমিনে সিজদা করলেন। আবার মিম্বারে উঠে কিরাআত পড়লেন, রুকু করলেন এবং সিজদার জন্য নিচে এলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, তিনি এ কাজ করেছেন যাতে মানুষ তাঁর অনুসরণ করে এবং তাঁর সালাতের পদ্ধতি জানতে পারে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাত শেখানো শুধু কথার মাধ্যমে নয়, কাজের মাধ্যমেও হতে পারে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মানুষকে বাস্তবে দেখিয়ে সালাতের নিয়ম শিখিয়েছেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কাজের মাধ্যমে সালাত শিখিয়েছেন।
  • মুক্তাদীরা ইমামের অনুসরণ করবে।
  • সিজদা জমিনে করা হয়েছে।
  • সালাত শেখার জন্য নবীজির পদ্ধতি জানা গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন