৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৮৬-[২০] - জুমুআর পর ফারয ও সুন্নাত আলাদা রাখা
সুন্নাত ও এর ফজিলত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
জুমুআর পর ফারয ও সুন্নাত মিশিয়ে না পড়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৮৬-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৮৬-[২০]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ قَالَ: إِنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَرْسَلَه إِلَى السَّائِبِ يَسْأَلُه عَنْ شَيْءٍ رَآهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلَاةِ فَقَالَ: نَعَمْ صَلَّيْتُ مَعَهُ الْجُمُعَةَ فِي الْمَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ الْإِمَامُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إِلَيَّ فَقَالَ: لَا تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلَا تَصِلْهَا بِصَلَاةٍ حَتّى تَكَلَّمَ أوتَخْرُجَ فَإِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ أَمَرَنَا بِذلِكَ أَنْ لَا نُوصِلَ بِصَلَاةٍ حَتّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ.رَوَاهُ مُسلم
‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাফি' ইবনু যুবায়র (রহঃ) তাঁকে সায়িব (রাঃ) এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি যেন ঐসব জিনিস তাঁকে প্রশ্ন করেন যেসব জিনিস তাঁকে সালাতে আদায় করতে দেখে মু'আবিয়াহ্ তা করতে বারণ করেছেন। [তাই আম্র (রহঃ) সায়িব (রাঃ)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁর থেকে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন।]তিনি বললেন, হ্যাঁ, একবার আমি 'আমীরে মু'আবিয়ার সঙ্গে মাক্সূরায় জুমু'আর সালাত আদায় করেছি। ইমাম সালাম ফিরাবার পর আমি (ফার্য পড়ার স্থানেই) দাঁড়িয়ে গেলাম ও সুন্নাত সালাত আদায় করতে শুরু করলাম। ('আমীরে মু'আবিয়াহ্ সালাত শেষ করে নিজের বাড়িতে চলে গেলেন)।যাওয়ার সময় তিনি এক লোককে, আমাকে বলার জন্যে বলে পাঠালেন যে, ঐ সময় (জুমু'আহ্ আদায়ের সময়) তুমি যা করেছ ভবিষ্যতে তুমি যেন তা না করো। যখন তুমি জুমু'আর সালাত আদায় করবে তখন ফার্য সালাতকে আর কোন সালাতের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে না, যে পর্যন্ত না তুমি কোন কথাবার্তা বলো অথবা (মসজিদ থেকে) বের হয়ে যাও। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন এক সালাতকে আর সালাতের সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলি, যতক্ষণ পর্যন্ত না কথাবার্তা বলি অথবা মসজিদ থেকে বের হয়ে না যাই। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৮৬৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৮৬-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমুআর সালাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব শেখানো হয়েছে। সায়িব (রাঃ) ইমাম সালাম ফিরানোর পর ফারয পড়ার স্থানেই দাঁড়িয়ে সুন্নাত শুরু করেন। পরে মু‘আবিয়াহ (রাঃ) তাকে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন না করতে। কারণ জুমুআর সালাত আদায় করার পর ফারয সালাতকে আরেক সালাতের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা উচিত নয়, যতক্ষণ না কথা বলা হয় অথবা মসজিদ থেকে বের হওয়া হয়। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে জুমুআর পর সুন্নাত, ফারয ও নফল আলাদা রাখা, এবং সালাতের আদব—এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার। এটি শুধু জুমুআর ঘটনার বর্ণনা; তাই অন্য সালাতের ওপর অতিরিক্ত সাধারণ নিয়ম চাপানো এখানে উদ্দেশ্য নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমুআর ফারযের পর সঙ্গে সঙ্গে একই স্থানে সুন্নাত শুরু না করার নির্দেশ এসেছে।
- ফারয ও নফল সালাতের মাঝে কথা বলা বা স্থান বদল আলাদা করার মাধ্যম হতে পারে।
- সাহাবারা ভুল দেখলে সুন্দরভাবে সতর্ক করতেন।
- সালাতের পরের আদবও সালাতের অংশের মতো গুরুত্বের সঙ্গে শেখা উচিত।
