৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৮৯-[২৩] - ফজরের সুন্নাতের পর নবীর ঘরের আচরণ
সুন্নাত ও এর ফজিলত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ফজরের সুন্নাতের পর কথা বলা বা শোয়ার বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৮৯-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৮৯-[২৩]
وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا صَلّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِىْ وَإِلَّا اضْطَجَعَ.رَوَاهُ مُسْلِمٌ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ফজরের সুন্নাত সালাত (ঘরে) আদায়ের পর যদি আমি সজাগ হয়ে উঠতাম তাহলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। আর আমি ঘুমে থাকলে তিনি শয়ন করতেন। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৭৪৩, বুখারী ১১৬১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৮৯-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফজরের দুই রাকআত সুন্নাতের পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘরোয়া আচরণের একটি সহজ বর্ণনা এসেছে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি যদি জাগ্রত থাকতেন, নবী (সা.) তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। আর তিনি ঘুমে থাকলে নবী (সা.) শুয়ে থাকতেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, ফজরের সুন্নাতের পর সময়টি সবসময় একইভাবে কাটত না; পরিস্থিতি অনুযায়ী কথা বলা বা শোয়া—দুই অবস্থাই ঘটেছে। এখানে ফজরের সুন্নাত, ঘরের পরিবেশ, স্বামী-স্ত্রীর সহজ কথা এবং ফজরের জামাতের আগের স্বল্প সময়ের আমল এসেছে। হাদিসটি অতিরিক্ত কোনো দীর্ঘ বিধান দেয় না; বরং নবী (সা.)-এর সহজ ও স্বাভাবিক আমলের একটি ছবি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের সুন্নাতের পর নবী (সা.) কখনো কথা বলতেন।
- আয়িশাহ (রাঃ) ঘুমিয়ে থাকলে তিনি শুয়ে থাকতেন।
- ইবাদতের সঙ্গে পরিবারের প্রতি কোমল আচরণের চিত্র পাওয়া যায়।
- ফজরের আগে সময় ব্যবহারে শান্ত ও সহজ আচরণের শিক্ষা আছে।
