৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৩-[৭] - মধুর কথার জান্নাতি শিক্ষা
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - প্রথম অনুচ্ছেদ
মধুর কথা ও জান্নাতের আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৩৩-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৩৩-[৭]
وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنْ عَلِيٍّ نَحْوَه وَفِي رِوَايَتِه: «لِمَنْ أَطَابَ الْكَلَامَ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইমাম তিরমিযীও এ ধরনের বর্ণনা ‘আলী (রাঃ) হতে নকল করেছেন। কিন্তু এদের সূত্রে ‘কোমল কথা বলে’-এর স্থানে ‘মধুর কথা বলে’ উদ্ধৃত হয়েছে। উভয় বাক্যের অর্থ একই।[১]
[১] হাসান : আত্ ১৯৮৪, ২৫২৭, আহমাদ ১৩৩৮, মুসনাদ আল বাযযার ৭০২, ইবনু খুযায়মাহ্ ২১৩৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৩-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি আগের হাদিসের মতোই অর্থ বহন করে। এখানে বলা হয়েছে, ইমাম তিরমিযী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ ধরনের বর্ণনা এনেছেন। তবে সেখানে নরম কথা বলার জায়গায় মধুর কথা বলার শব্দ এসেছে, আর উভয় বাক্যের অর্থ একই বলা হয়েছে। এই ছোট বর্ণনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ইসলামে কথাবার্তার ধরন খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ সালাত, সাওম ও রাতের ইবাদত করলেও যদি তার ভাষা কঠোর হয়, তাহলে তার আচরণে ঘাটতি থাকে। মধুর কথা মানে মিথ্যা প্রশংসা নয়; বরং নরম, সম্মানজনক ও কষ্ট না দেওয়া ভাষা। এই শিক্ষা ১২৩২ নম্বর হাদিসের আমলগুলোর সঙ্গে যুক্ত—খাবার দেওয়া, সাওম রাখা, রাতে সালাত পড়া এবং মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নরম ও মধুর কথা একই ভালো আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে।
- ইবাদতের সঙ্গে মানুষের প্রতি সুন্দর ব্যবহার থাকা দরকার।
- কথার ভাষা চরিত্রের একটি বড় পরিচয়।
- কাউকে কষ্ট না দিয়ে কথা বলা মুমিনের গুণ।
