৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৪-[৮] - তাহাজ্জুদ ছেড়ে না দেওয়ার শিক্ষা
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাহাজ্জুদে ধারাবাহিক থাকার গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৩৪-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৩৪-[৮]
عَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «يَا عَبْدَ اللّهِ لَا تَكُنْ مِثْلَ فُلَانٍ كَانَ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ». (مُتَّفق عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ! তুমি অমুক লোকের মতো হয়ো না। সে রাত্রে (সজাগ হয়ে) তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করত, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১১৫২, মুসলিম ১১৫৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৩৪-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, তুমি অমুক লোকের মতো হয়ো না। সে রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করত, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। হাদিসটি ছোট, কিন্তু শিক্ষাটি গভীর। কোনো ভালো আমল শুরু করার পর তা একেবারে ছেড়ে দেওয়া ভালো নয়। তাহাজ্জুদ এমন আমল, যা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। যদি কেউ খুব বেশি শুরু করে পরে ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দেয়, তাহলে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। তাই কম হলেও নিয়মিত আমল করা বেশি নিরাপদ। এই হাদিস রাতের সালাতের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখার শিক্ষা দেয়। আমলকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাজানো এবং তা ধরে রাখার চেষ্টা করা মুমিনের দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো আমল শুরু করলে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
- তাহাজ্জুদ কম হলেও নিয়মিত করলে অভ্যাস তৈরি হয়।
- অতিরিক্ত শুরু করে পরে ছেড়ে দেওয়া থেকে সাবধান থাকা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের আমলের ধারাবাহিকতার দিকে খেয়াল রাখতেন।
