৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪১-[১৫] - রোজা ও রাতের সালাতে নববী ভারসাম্য
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নফল ইবাদতে নবীজির ভারসাম্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৪১-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৪১-[১৫]
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتّى يُظَنَّ أَنْ لَا يَصُومَ مِنْهُ وَيَصُومُ حَتّى يُظَنَّ أَنْ لَا يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئًا وَكَانَ لَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلَّا رَأَيْتَه وَلَا نَائِمًا إِلَّا رَأَيْتَه. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন মাসে রোযাহীন কাটাতেন। এমনকি আমরা মনে করতাম, তিনি হয়ত এ মাসে সাওম পালন করবেন না। আবার তিনি সাওম পালন করতে থাকতেন। আমরা ধারণা করতাম, তিনি বুঝি এ মাসে সাওম পালন করা ছাড়বেন না। তুমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রাত্রে সালাত আদায় করা অবস্থায় দেখতে চাও, তাহলে দেখতে পাবে তিনি সালাত আদায় করছেন। আবার তুমি যদি ঘুম অবস্থায় দেখতে চাও তাহলে দেখতে পাবে তিনি ঘুমাচ্ছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ১১৪১। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪১-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নফল রোজা ও রাতের সালাতের একটি সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি কোনো কোনো মাসে রোজা না রেখে কাটাতেন, আবার কোনো সময় এত রোজা রাখতেন যে সাহাবীরা মনে করতেন তিনি হয়তো আর ছাড়বেন না। রাতের সালাতের ক্ষেত্রেও একই ভারসাম্য দেখা যায়। কেউ তাঁকে রাতে সালাতরত দেখতে চাইলে পেত, আবার ঘুমন্ত দেখতে চাইলে তাও পেত। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নফল ইবাদত মানে নিজের ওপর চাপ তৈরি করা নয়; বরং রোজা, তাহাজ্জুদ, ঘুম ও বিশ্রামের মধ্যে সুন্দর নিয়ম রাখা। ইবাদতে নিয়মিততা ও মধ্যম পথ—এই দুটিই এখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল রোজা ও রাতের সালাতে ভারসাম্য রাখা নববী আদর্শের অংশ।
- ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের বিশ্রাম ও ঘুমেরও গুরুত্ব আছে।
- কখনো বেশি, কখনো কম—নফল ইবাদতে সহজতা রাখা যায়।
- তাহাজ্জুদ ও নফল রোজা ভালো আমল, তবে তা অতিরিক্ত কষ্টের পথে নেওয়া উচিত নয়।
