৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪৪-[১৮] - সতেজ অবস্থায় সালাত আদায়ের শিক্ষা
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সতেজ মনে সালাত আদায়ের আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৪৪-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৪৪-[১৮]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لِيُصَلِّ أَحَدُكُمْ نَشَاطَه وَإِذَا فَتَرَ فَلْيَقْعُدْ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কারো উচিত ততক্ষণ পর্যন্ত সালাত আদায় করা যতক্ষণ সে প্রফুল্ল বা সতেজ থাকে। ক্লান্ত হয়ে গেলে সে যেন বসে যায় (অর্থাৎ সালাত আদায় না করে)।
[১] সহীহ : বুখারী ১১৫০, মুসলিম ৭৮৪। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪৪-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের সময় শরীর ও মন সতেজ থাকার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন ততক্ষণ সালাত আদায় করে যতক্ষণ সে প্রফুল্ল বা সতেজ থাকে। ক্লান্ত হয়ে গেলে বসে যেতে বলা হয়েছে। এখানে নফল সালাতের ক্ষেত্রে একটি সহজ ও দয়ার শিক্ষা আছে। সালাত শুধু শরীরের নড়াচড়া নয়; এতে মনোযোগ, বুঝে পড়া এবং আল্লাহর সামনে বিনয় থাকা দরকার। বেশি ক্লান্তি থাকলে মন ঠিক থাকে না, পড়াও ভুল হতে পারে। তাই সতেজ অবস্থায় সালাত, ক্লান্ত হলে বিরতি, ইবাদতে সহজতা—এই বিষয়গুলো এই হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত মনোযোগ ও সতেজতার সঙ্গে আদায় করা ভালো।
- ক্লান্তি বেশি হলে নফল সালাতে বিরতি নেওয়া যায়।
- ইবাদতকে নিজের ওপর অযথা কষ্টে পরিণত করা উচিত নয়।
- সালাতে শুধু পরিমাণ নয়, মনোযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
