৪/৩৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪৫-[১৯] - ঝিমুনি এলে সালাতে বিরতির শিক্ষা
কিয়ামুল লাইল-এর প্রতি উৎসাহ দান - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে ঝিমুনি এলে কী করবেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৪৫-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৪৫-[১৯]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّىْ فَلْيَرْقُدْ حَتّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَا يدْرِىْ لَعَلَّه يسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ نَفْسَه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কেউ যদি সালাত আদায় করা অবস্থায় ঝিমাতে শুরু করে তবে সে যেন ঘুমিয়ে পড়ে, ঘুম দূর না হওয়া পর্যন্ত। কারণ তোমাদের কেউ যখন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সালাত আদায় করে (ঘুমের কারণে) সে জানতে পারে না (সে কি পড়ছে)। হতে পারে সে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করতে গিয়ে (ঝিমানীর কারণে নিজে) নিজেকে গালি দিচ্ছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ২১২, মুসলিম ৭৮৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৪৫-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের সময় ঝিমুনি এলে কী করা উচিত, তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কেউ যদি সালাতের মধ্যে ঝিমাতে শুরু করে, সে যেন ঘুমিয়ে নেয়, যতক্ষণ না ঘুম দূর হয়। কারণ ঝিমুনির কারণে মানুষ বুঝতে পারে না সে কী পড়ছে। সে মাগফিরাত চাইতে গিয়ে ভুলে নিজের বিরুদ্ধে কথা বলে ফেলতে পারে। এই হাদিস সালাতের মনোযোগ, বুঝে দোয়া করা এবং নিজের শরীরের অবস্থা বোঝার শিক্ষা দেয়। নফল সালাতের ক্ষেত্রে ঘুম, বিশ্রাম ও ইবাদতের ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ইবাদত যেন অচেতন অভ্যাস না হয়; বরং বুঝে, মন দিয়ে আদায় করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঝিমুনি নিয়ে সালাত পড়লে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।
- ঘুম বেশি হলে আগে বিশ্রাম নিয়ে পরে সালাত আদায় করা ভালো।
- দোয়া ও ইস্তিগফার বুঝে করা দরকার।
- ইবাদতে শরীরের অবস্থা বিবেচনা করা নববী শিক্ষার অংশ।
