৪/৩৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৫৭-[৮] - নবীজির চরিত্র ছিল কুরআন
আমলে ভারসাম্য বজায় রাখা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নবীজির চরিত্র, বিতর ও রাতের সালাত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৫৭-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৫৭-[৮]
وَعَن سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ قَالَ انْطَلَقْتُ إِلى عَائِشَةَ فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنْبِئِيْنِىْ عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ قَالَتْ: أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْانَ؟ قُلْتُ: بَلى. قَالَتْ: فَإِنَّ خُلُقَ نَبِيِّ اللّهِ ﷺ كَانَ الْقُرْانَ. قُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنْبِئِيْنِىْ عَنْ وَتْرِ رَسُوْلِ اللّهِ ﷺ فَقَالَتْ: كُنَّا نُعِدُّ لَه سِوَاكَه وَطَهُورَه فَيَبْعَثُهُ اللّهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَه مِنَ اللَّيْلِ فَيَتَسَوَّكُ وَيَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّىْ تِسْعَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ فِيهَا إِلَّا فِي الثَّامِنَةِ فَيَذْكُرُ اللّهَ وَيَحْمَدُه وَيَدْعُوهُ ثُمَّ يَنْهَضُ وَلَا يُسَلِّمُ فَيُصَلِّي التَّاسِعَةَ ثُمَّ يَقْعُدُ فَيَذْكُرُ اللّهَ وَيَحْمَدُه وَيَدْعُوهُ ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا ثُمَّ يُصَلِّىْ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَمَا يُسَلِّمُ وَهُوَ قَاعِدٌ فَتِلْكَ إِحْدى عَشْرَة رَكْعَةً يَابُنَيَّ فَلَمَّا أَسَنَّ ﷺ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ وَصَنَعَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَنِيعِه فِي الْأُوْلى فَتِلْكَ تِسْعٌ يَا بُنَيَّ وَكَانَ نَبِيُّ اللّهِ ﷺ إِذَا صَلّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا وَكَانَ إِذَا غَلَبَه نَوْمٌ أَوْ وَجَعٌ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ صَلّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً وَلَا أَعْلَمُ نَبِيَّ اللّهِ ﷺ قَرَأَ الْقُرْانَ كُلَّه فِي لَيْلَةٍ وَلَا صَلّى لَيْلَةً إِلَى الصُّبْحِ وَلَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ.رَوَاهُ مُسلم
সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) -এর কাছে গেলাম। তাঁর কাছে বললাম, উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর ‘খুলুক’ (স্বভাব-চরিত্র) ব্যাপারে কিছু বলুন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তুমি কি কোরআন পড়ো না? আমি বললাম, হ্যাঁ পড়ি। এবার তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নৈতিকতা ছিল আল-কোরআন।আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর বিতর ব্যাপারে বলুন। তিনি বললেন, (রাতের বিতর সালাতের জন্যে) আমি পূর্বে থেকেই রাসূলুল্লাহর মিসওয়াক ও ওজুর পানির ব্যবস্থা করে রাখতাম। আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁকে ঘুম হতে সজাগ করতে চাইতেন, উঠাতেন। তিনি (ﷺ) প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর ওজু করতেন ও নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন। অষ্টম রাকাত ব্যতীত কোন রাকাতে তিনি বসতেন না। আট রাকাত পড়া শেষ হলে (‘তাশাহহুদে’) বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দোয়া করতেন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতেন।তারপর সালাম ফিরানো ব্যতীত নবম রাকাতের জন্যে দাঁড়িয়ে যেতেন। নবম রাকাত শেষ করে তাশাহহুদ পাঠ করার জন্যে বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দোয়া করতেন (অর্থাৎ তাশাহহুদ পড়তেন)। এরপর আমাদেরকে শুনিয়ে সশব্দে সালাম ফিরাতেন। তারপর বসে বসে দুই রাকাত আদায় করতেন। হে বৎস! এ মোট এগার রাকাত হলো।এরপর যখন তিনি বার্ধক্যে পৌছে গেলেন এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন বিতরসহ সাত রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর পূর্বের মতোই দুই রাকাত বসে বসে আদায় করতেন। প্রিয় বৎস! এ মোট নয় রাকাত হলো। আল্লাহর নবী (ﷺ) কোন সালাত আদায় করলে, তা নিয়মিত আদায় করতে পছন্দ করতেন। কোন দিন যদি ঘুম বেশী হয়ে যেত অথবা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিত, যাতে তাঁর জন্যে রাত্রে দাঁড়ানো সম্ভব হত না, তখন তিনি দুপুরে বারো রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন। আমার জানা মতে, আল্লাহর নবী (ﷺ) কখনো এক রাতে সম্পুর্ণ কুর‘আন পড়েননি। অথবা ভোর পর্যন্ত সারা রাত্র ধরে সালাত আদায় করেননি এবং রমাযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে গোটা মাস সাওম পালন করেননি।(মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৭৪৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৫৭-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে ‘আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্র ও রাতের সালাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি প্রথমে বলেন, নবীজির চরিত্র ছিল আল-কুরআন। এরপর তাঁর বিতর সালাতের পদ্ধতি বলেন। রাতের সালাতের জন্য মিসওয়াক ও ওযুর পানি প্রস্তুত থাকত। তিনি উঠলে মিসওয়াক করতেন, ওযু করতেন এবং নয় রাকআত সালাত আদায় করতেন। অষ্টম রাকআতে বসে যিকর, প্রশংসা ও দোয়া করতেন, সালাম না ফিরিয়ে নবম রাকআতে দাঁড়াতেন, তারপর সালাম ফিরাতেন। পরে বসে দুই রাকআত পড়তেন। বার্ধক্যে তিনি বিতরসহ সাত রাকআত পড়তেন। হাদিসে আরও এসেছে, তিনি কোনো সালাত শুরু করলে তা নিয়মিত রাখতে পছন্দ করতেন, আর ঘুম বা অসুস্থতার কারণে রাতের সালাত না হলে দিনে বারো রাকআত পড়ে নিতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির চরিত্র কুরআনের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
- রাতের সালাতের আগে মিসওয়াক ও ওযুর প্রস্তুতির কথা এসেছে।
- নবীজি শুরু করা সালাত নিয়মিত রাখতে পছন্দ করতেন।
- ঘুম বা অসুস্থতায় রাতের সালাত ছুটলে দিনে তা পূরণ করার কথা এসেছে।
