৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৮৮-[২৬] - রুকূর পরে দু‘আ কুনূত
বিতরের সালাত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
রুকূর পরে দু‘আ কুনূত ও নবীজির আবেদন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৮৮-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৮৮-[২৬]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلى احَدٍ أَوْ يَدْعُوَ لِأَحَدٍ قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ فَرُبَّمَا قَالَ إِذَا قَالَ: «سَمِعَ اللّهُ لِمَنْ حَمِدَه رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ: اللّهُمَّ أَنْج الْوَلِيْدَ بْنِ الْوَلِيْدِ وَسَلَمَةَ ابْنِ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنِ رَبِيْعَةَ اللّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِىْ يُوسُفَ» يَجْهَرُ بِذلِكَ وَكَانَ يَقُوْلُ فِي بَعْضِ صَلَاتِه: «اللّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا لِأَحْيَاءٍ مِنَ الْعَرَبِ» حَتّى أَنْزَلَ اللّهُ: ﴿لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ﴾ [سوره آل عمران 3 : 128] الْآيَة. (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন লোককে বদ্দোয়া অথবা কোন লোককে দোয়া করতে চাইলে রুকূ‘র পরে কুনূত (قنوت) পড়তেন। তাই কোন কোন সময় তিনি, ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা- লাকাল হাম্দুই বলার পরে এ দোয়া করতেন, ‘আল্লা-হুম্মা আন্জিল ওয়ালীদ ইবনিল ওয়ালীদ। ওয়া সালামাতাব্নি হিশা-ম, ওয়া ‘আইয়্যা-শাব্নি রবী‘আহ্, আল্লা-হুম্মাশ্দুদ ওয়াত্ব আতাকা ‘আলা-মুযারা ওয়াজ্‘আল্হা- সিনীনা কাসিনী ইউসুফা’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে সালামাহ্ ইবনু হিশামকে, ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী‘আকে তুমি মুক্তি দান করো। হে আল্লাহ! ‘মুযার জাতির’ ওপরে তুমি কঠিন ‘আযাব নাযিল করো। আর এ ‘আযাবকে তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ) -এর বছরগুলোর ন্যায় দুর্ভিক্ষের রূপ ধারণ করে দাও।’ তিনি উচ্চৈঃস্বরে এ দোয়া পড়তেন।কোন কোন সালাতে তিনি (ﷺ) ‘আরবে এসব গোত্রের জন্যে এভাবে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি অমুক অমুকের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করো।’তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন, ‘লাইসা লাকা মিনাল আম্রি শাইয়ুন’ অর্থাৎ “এ ব্যাপারে আপনার কোন দখল নেই”- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১২৮)।(বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৪৫৬০, মুসলিম ৬৭৭; শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৮৮-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কারো জন্য দু‘আ করতে চাইতেন বা কারো বিরুদ্ধে বদদু‘আ করতে চাইতেন, তখন রুকূর পরে কুনূত পড়তেন। তিনি ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলার পর ওয়ালীদ ইবনুল ওয়ালীদ, সালামাহ ইবনু হিশাম ও ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী‘আহর মুক্তির জন্য দু‘আ করেছেন। আবার মুযার জাতির ওপর কঠিন অবস্থার দু‘আও করেছেন। তিনি উচ্চস্বরে পড়তেন। পরে “এ ব্যাপারে আপনার কোনো দখল নেই” অর্থের আয়াত নাযিল হয়। হাদিসটি দু‘আ কুনূত, রুকূর পর দু‘আ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে বান্দার সীমা বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকূর পরে কুনূত পড়ে কারো জন্য দু‘আ করার বর্ণনা এসেছে।
- নবীজি নির্দিষ্ট মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করেছেন।
- আল্লাহর আদেশ নাযিল হলে বান্দাকে সেই নির্দেশের সামনে থেমে যেতে হয়।
