৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯৫-[৬] - নফল সালাত ঘরে পড়ার ফজিলত
দোয়া কুনুত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
তারাবীহ, ভিড় এবং ঘরে নফল সালাতের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৯৫-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৯৫-[৬]
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ فَصَلّى فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَيْهِ نَاسٌ ثُمَّ فَقَدُوا صَوْتَه لَيْلَةً وَظَنُّوْا أَنَّه قَدْ نَامَ فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَتَنَحْنَحُ لِيَخْرُجَ إِلَيْهِمْ. فَقَالَ: «مَا زَالَ بِكُمُ الَّذِىْ رَأَيْتُ مِنْ صَنِيعِكُمْ حَتّى خَشِيْتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِه. فَصَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ أَفْضَلَ صَلَاةِ الْمَرْء فِي بَيته إِلَّا الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) (রমাযান) মাসে মসজিদের ভিতরে চাটাই দিয়ে একটি কামরা তৈরি করলেন। তিনি (ﷺ) এখানে কয়েক রাত (তারাবীহ تراويح) সালাত আদায় করলেন। আস্তে আস্তে তাঁর নিকট লোকজনের ভিড় জমে গেল। এক রাতে তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পেয়ে লোকের মনে করেছে তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে গেছেন। তাই কেউ কেউ গলা খাকারী দিলো, যাতে তিনি (ﷺ) তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন।তিনি (ﷺ) বললেন, তোমাদের যে অনুরাগ আমি দেখছি তাতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে এ সালাত না আবার তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে যায়। তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে গেলে তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। অতএব হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের বাড়িতে সালাত আদায় কর। এজন্য ফার্য সালাত ব্যতীত যে সালাত ঘরে পড়া হয় তা উত্তম সালাত।(বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭২৯০, মুসলিম ৭৮১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯৫-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানে মসজিদের ভেতরে চাটাই দিয়ে একটি জায়গা বানিয়ে কয়েক রাত সালাত আদায় করেন। মানুষ তাঁর কাছে জমতে থাকে। এক রাতে তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনে তারা ভাবল, তিনি ঘুমিয়ে গেছেন। কেউ কেউ গলা খাঁকারি দিল, যাতে তিনি বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি বললেন, তোমাদের আগ্রহ দেখে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, এ সালাত তোমাদের ওপর ফারয হয়ে যেতে পারে; আর ফারয হলে তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি ফারয সালাত ছাড়া অন্য সালাত ঘরে পড়তে বললেন। তাই হাদিসটি তারাবীহ, নফল সালাত এবং ঘরে ইবাদতের গুরুত্ব বুঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি সাহাবিদের আগ্রহ দেখেও তাদের ওপর কষ্টকর কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।
- ফারয সালাত ছাড়া নফল সালাত ঘরে পড়া উত্তম বলা হয়েছে।
- তারাবীহের ঘটনায় নবীজির উম্মতের প্রতি সহজতা ও মমতা প্রকাশ পায়।
