৪/৩৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩০০-[৩] - ফারয ছাড়া ঘরে সালাত উত্তম
রমজান মাসের কিয়াম (তারাবিহ সালাত) - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বিয়ামে রমাযান হলো রমাযানের রাত্রিগুলোতে ক্বিয়াম (কিয়াম) করা এবং সালাতুত্ তারাবীহ ও কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতি ‘ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন যে, ক্বিয়ামে রমাযান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারাবীহের সালাত।হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, সেটা (তারাবীহ) দ্বারা রমাযানের ক্বিয়াম (কিয়াম)-এর উদ্দেশ্য হাসিল হবে।তবে বিষয়টি এরূপ নয় যে, তারাবীহ ব্যতীত কিয়ামে রমাযান হবে না।আল্লামা কিরমানী (রহঃ) বলেন যে, সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, কিয়ামে রমাযান দ্বারা তারাবীহের সালাতই উদ্দেশ্যتراويحশব্দটিترويحة-এর বহুবচন যার অর্থ একবার বিশ্রাম নেয়া। রমাযানের রাত্রিগুলোর জামা‘আতবদ্ধ সালাতের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। কেননা যারা ক্বিয়ামে রমাযানের ১ম জামা‘আত করেছেন তারা প্রতি দু’ সালামের মাঝে বিশ্রাম নিতেন। ফাতহুল বারীতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।আল ক্বামূস-এ রয়েছে যে, প্রতি চার রাক্‘আতের পর বিশ্রামের কারণে রমাযানের ক্বিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতের চার রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের পর বিশ্রাম নিতেন.....। (বায়হাক্বী- ২য় খন্ড, ৪৯৭ পৃঃ)তবে জেনে রাখতে হবে যে, রমাযানে তারাবীহ, ক্বিয়ামে রমাযান, সালাতুল লায়ল, তাহাজ্জুদের সালাত এগুলো একই জাতীয় ‘ইবাদাত এবং একই সালাতের ভিন্ন নাম। রমাযানে তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ ভিন্ন সালাত নয়। কেননা নবী (ﷺ) থেকে সহীহ অথবা য‘ঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় যে, নবী (ﷺ) রমাযানের রাত্রে দু’টি সালাত আদায় করেছেন যার একটি তারাবীহ ও অপরটি তাহাজ্জুদ। সুতরাং রমাযান ছাড়া অন্য মাসে যা তাহাজ্জুদ, রমাযানে তা তারাবীহ।যেমন- আবূ যার ও অন্যান্য রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তার দলীল এবং হানাফী মাযহায অবলম্বী ফায়জুল বারী গ্রন্থ প্রণেতা (রহঃ) বলেন আমার নিকট পছন্দনীয় মত হলো তারাবীহ এবং রাতের সালাত একই যদিও উভয়ের গুণাবলী ভিন্ন, যাই হোক আমি বলব (মির্‘আত প্রণেতা) যে, তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ একই সালাত এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাহাজ্জুদটি শেষ রাতের সাথে নির্দিষ্ট। তবে আমার নিকট উত্তম কথা হলো যে, নবী (ﷺ)-এর অধিকাংশ রাতের সালাত ছিল রাতের শেষাংশে।
ফারয ছাড়া ঘরে সালাত আদায়ের বিশেষ শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩০০-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩০০-[৩]
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «صَلَاةُ الْمَرْءِ فِىْ بَيْتِه أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِه فِي مَسْجِدِىْ هذَا إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন : মানুষ তার ঘরে ফরজ সালাত ব্যতীত যে সালাত আদায় করবে তা এ মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে ভাল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১০৪৪, আত্ তিরমিযী ৪৫০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৯৯৫, সহীহ আল জামি‘ ৩৮১৪।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩০০-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষ তার ঘরে ফারয সালাত ব্যতীত যে সালাত আদায় করে, তা তাঁর এই মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। এখানে ‘এই মসজিদ’ বলতে নবীজির মসজিদের কথা এসেছে। হাদিসটি খুব পরিষ্কারভাবে নফল সালাত ঘরে আদায়ের গুরুত্ব জানায়। তবে ফারয সালাত এর ব্যতিক্রম। তাই ফারয সালাতের জন্য মসজিদ, আর নফল সালাতের জন্য ঘর—এই ভারসাম্য এই বর্ণনায় সুন্দরভাবে বোঝা যায়। ঘরে নফল সালাত আদায় করলে ঘরেও ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফারয সালাত এই নির্দেশনার ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।
- নফল সালাত ঘরে আদায় করা উত্তম বলা হয়েছে।
- ঘরকে ইবাদতের জায়গা বানানোর শিক্ষা এই হাদিসে আছে।
