৪/৩৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯৯-[২] - শাবানের পনের রাতের বর্ণনা

রমজান মাসের কিয়াম (তারাবিহ সালাত) - প্রথম অনুচ্ছেদ

ক্বিয়ামে রমাযান হলো রমাযানের রাত্রিগুলোতে ক্বিয়াম (কিয়াম) করা এবং সালাতুত্ তারাবীহ ও কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতি ‘ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন যে, ক্বিয়ামে রমাযান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারাবীহের সালাত।হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, সেটা (তারাবীহ) দ্বারা রমাযানের ক্বিয়াম (কিয়াম)-এর উদ্দেশ্য হাসিল হবে।তবে বিষয়টি এরূপ নয় যে, তারাবীহ ব্যতীত কিয়ামে রমাযান হবে না।আল্লামা কিরমানী (রহঃ) বলেন যে, সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, কিয়ামে রমাযান দ্বারা তারাবীহের সালাতই উদ্দেশ্যتراويحশব্দটিترويحة-এর বহুবচন যার অর্থ একবার বিশ্রাম নেয়া। রমাযানের রাত্রিগুলোর জামা‘আতবদ্ধ সালাতের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। কেননা যারা ক্বিয়ামে রমাযানের ১ম জামা‘আত করেছেন তারা প্রতি দু’ সালামের মাঝে বিশ্রাম নিতেন। ফাতহুল বারীতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।আল ক্বামূস-এ রয়েছে যে, প্রতি চার রাক্‘আতের পর বিশ্রামের কারণে রমাযানের ক্বিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতের চার রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের পর বিশ্রাম নিতেন.....। (বায়হাক্বী- ২য় খন্ড, ৪৯৭ পৃঃ)তবে জেনে রাখতে হবে যে, রমাযানে তারাবীহ, ক্বিয়ামে রমাযান, সালাতুল লায়ল, তাহাজ্জুদের সালাত এগুলো একই জাতীয় ‘ইবাদাত এবং একই সালাতের ভিন্ন নাম। রমাযানে তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ ভিন্ন সালাত নয়। কেননা নবী (ﷺ) থেকে সহীহ অথবা য‘ঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় যে, নবী (ﷺ) রমাযানের রাত্রে দু’টি সালাত আদায় করেছেন যার একটি তারাবীহ ও অপরটি তাহাজ্জুদ। সুতরাং রমাযান ছাড়া অন্য মাসে যা তাহাজ্জুদ, রমাযানে তা তারাবীহ।যেমন- আবূ যার ও অন্যান্য রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তার দলীল এবং হানাফী মাযহায অবলম্বী ফায়জুল বারী গ্রন্থ প্রণেতা (রহঃ) বলেন আমার নিকট পছন্দনীয় মত হলো তারাবীহ এবং রাতের সালাত একই যদিও উভয়ের গুণাবলী ভিন্ন, যাই হোক আমি বলব (মির্‘আত প্রণেতা) যে, তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ একই সালাত এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাহাজ্জুদটি শেষ রাতের সাথে নির্দিষ্ট। তবে আমার নিকট উত্তম কথা হলো যে, নবী (ﷺ)-এর অধিকাংশ রাতের সালাত ছিল রাতের শেষাংশে।

শাবানের পনের রাত: ক্ষমার বর্ণনা ও সতর্ক মন্তব্য

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৯৯-[২]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: فَقَدْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ لَيْلَةً فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ فَقَالَ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُه؟ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللّهِ إِنِّىْ ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ فَقَالَ: إِنَّ اللّهَ تَعَالى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَزَادَ رَزِيْنٌ: مِمَّنِ اسْتَحَقَّ النَّارَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَعْنِي البُخَارِيَّ يُضْعِّفُ هذَا الحَدِيثَ

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার আমি রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বিছানায় খুঁজে না পেয়ে তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ জান্নাতুল বাকীতে দেখতে পেলাম। আমাকে দেখে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ তোমার ওপর অবিচার করবে? আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মনে করেছিলাম আপনি আপনার কোন বিবির নিকট গিয়েছেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (‘আয়িশাহ্) আল্লাহ তা‘আলা শা‘বান মাসের পনের তারিখের রাত্রে প্রথম আকাশে নেমে আসেন। বানূ কাল্ব গোত্রের (বকরীর) দলের পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশী পরিমাণ গুনাহ ক্ষমা করে দেন।(তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; রযীন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন “যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে তাদের মধ্য থেকে”। আর তিরমিযী বলেছেন, আমি ইমাম বুখারীকে এ হাদীসটি দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছি) [১]

[১] য‘ঈফ : আত্ তিরমিযী ৭৩৯, ইবনু মাজাহ্ ১৩৮৯, দারাকুত্বনী ৮৯, শু‘আবুল ঈমান ৩৮২৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৯৯২। এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, কারণ ইয়াহ্ইয়া ইবনু আনবী কাসীর ‘উরওয়াহ্ থেকে শুনেননি।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯৯-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এক রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিছানায় না পেয়ে খুঁজতে বের হন। তিনি তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দেখতে পান। নবীজি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি আশঙ্কা করেছিলেন যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁর ওপর অবিচার করবেন। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি ভেবেছিলেন নবীজি হয়তো অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তখন নবীজি বলেন, শাবান মাসের পনের তারিখের রাতে আল্লাহ প্রথম আকাশে নেমে আসেন এবং বানূ কাল্ব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি লোককে ক্ষমা করেন। তবে বর্ণনার শেষে এসেছে, তিরমিযী ইমাম বুখারীকে এই হাদিস দুর্বল বলতে শুনেছেন। তাই এ বিষয়ে কথা বলার সময় এই মন্তব্যও উল্লেখ করা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হাদিসে শাবানের পনের রাতের ক্ষমার বর্ণনা এসেছে।
  • আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রশ্ন ও নবীজির জবাব ঘটনাটি সহজভাবে তুলে ধরে।
  • তিরমিযীর বর্ণনায় হাদিসটি দুর্বল বলার মন্তব্যও এসেছে, তাই সতর্ক থাকা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন