৪/৩৭. অধ্যায়ঃ

রমজান মাসের কিয়াম (তারাবিহ সালাত) - প্রথম অনুচ্ছেদ

ক্বিয়ামে রমাযান হলো রমাযানের রাত্রিগুলোতে ক্বিয়াম (কিয়াম) করা এবং সালাতুত্ তারাবীহ ও কুরআন তিলাওয়াত প্রভৃতি ’ইবাদাতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা।ইমাম নাবাবী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন যে, ক্বিয়ামে রমাযান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারাবীহের সালাত।হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, সেটা (তারাবীহ) দ্বারা রমাযানের ক্বিয়াম (কিয়াম)-এর উদ্দেশ্য হাসিল হবে।তবে বিষয়টি এরূপ নয় যে, তারাবীহ ব্যতীত কিয়ামে রমাযান হবে না।আল্লামা কিরমানী (রহঃ) বলেন যে, সকলের ঐকমত্য রয়েছে যে, কিয়ামে রমাযান দ্বারা তারাবীহের সালাতই উদ্দেশ্যتراويحশব্দটিترويحة-এর বহুবচন যার অর্থ একবার বিশ্রাম নেয়া। রমাযানের রাত্রিগুলোর জামা’আতবদ্ধ সালাতের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। কেননা যারা ক্বিয়ামে রমাযানের ১ম জামা’আত করেছেন তারা প্রতি দু’ সালামের মাঝে বিশ্রাম নিতেন। ফাতহুল বারীতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।আল ক্বামূস-এ রয়েছে যে, প্রতি চার রাক্’আতের পর বিশ্রামের কারণে রমাযানের ক্বিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে তারাবীহ। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের চার রাক্’আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের পর বিশ্রাম নিতেন.....। (বায়হাক্বী- ২য় খন্ড, ৪৯৭ পৃঃ)তবে জেনে রাখতে হবে যে, রমাযানে তারাবীহ, ক্বিয়ামে রমাযান, সালাতুল লায়ল, তাহাজ্জুদের সালাত এগুলো একই জাতীয় ’ইবাদাত এবং একই সালাতের ভিন্ন নাম। রমাযানে তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ ভিন্ন সালাত নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ অথবা য’ঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের রাত্রে দু’টি সালাত আদায় করেছেন যার একটি তারাবীহ ও অপরটি তাহাজ্জুদ। সুতরাং রমাযান ছাড়া অন্য মাসে যা তাহাজ্জুদ, রমাযানে তা তারাবীহ। যেমন- আবূ যার ও অন্যান্য রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস তার দলীল এবং হানাফী মাযহায অবলম্বী ফায়জুল বারী গ্রন্থ প্রণেতা (রহঃ) বলেন আমার নিকট পছন্দনীয় মত হলো তারাবীহ এবং রাতের সালাত একই যদিও উভয়ের গুণাবলী ভিন্ন, যাই হোক আমি বলব (মির্’আত প্রণেতা) যে, তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ একই সালাত এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তাহাজ্জুদটি শেষ রাতের সাথে নির্দিষ্ট। তবে আমার নিকট উত্তম কথা হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ রাতের সালাত ছিল রাতের শেষাংশে।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১২৯৮-[১]

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْتُ: يَارَسُوْلَ اللهِ لَو نَفَلَّتَنَا قِيَامَ هذِهِ اللَّيْلَةِ. قَالَ فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلّى مَعَ الْإِمَامِ حَتّى ينْصَرِفَ حُسِبَ لَه قِيَامُ اللَّيْلَةِ» . قَالَ: فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَه وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ. قَالَ قُلْتُ: وَمَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ: السَّحُوْرُ. ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ نَحْوَه إِلَّا أَنَّ التِّرْمِذِيَّ لَمْ يَذْكُرْ: ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ

আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে (রমাযান মাসের) সাওম পালন করেছি। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসের অনেক দিন আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করেননি (অর্থাৎ তারাবীহের সালাত আদায় করেননি)। যখন রমযান মাসের সাতদিন অবশিষ্ট থাকল তখন তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম করলেন অর্থাৎ তারাবীহের সালাত আদায় করালেন। যখন ছয় রাত বাকী থাকল (অর্থাৎ চব্বিশতম রাত এলো) তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করলেন না।আবার পাঁচ রাত অবশিষ্ট থাকতে অর্থাৎ পঁচিশতম রাতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে আধা রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম করলেন। আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাত যদি আরো অনেক সময় আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করতেন (তাহলে কতই না ভাল হত)। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন কোন লোক ফার্য সালাত ইমামের সঙ্গে আদায় করে। সালাত শেষে ফিরে চলে যায়, তার জন্যে গোটা রাত্রের ‘ইবাদাতের সাওয়াব লেখা হয়ে যায়।এরপর যখন চার রাত বাকী থাকে অর্থাৎ ছাব্বিশতম রাত আসে তখন তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করতেন না। এমনকি আমরা তাঁর জন্যে অপেক্ষা করতে করতে এক তৃতীয়াংশ রাত বাকী থাকল। যখন তিনরাত বাকী থাকল অর্থাৎ সাতাশতম রাত আসলো। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিবারের নিজের বিবিগণের সকলকে একত্র করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করালেন (অর্থাৎ গোটা রাত আমাদেরকে সালাত আদায় করালেন)। এমনকি আমাদের আশংকা হলো যে, আবার না ‘ফালাহ’ ছুটে যায়।বর্ণনাকারী বললেন, আমি প্রশ্ন করলাম ‘ফালা-হ’ কি? ‘আবূ যার’ বললেন। ‘ফালা-হ’ হলো সাহরী খাওয়া। এরপর তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে মাসের বাকী দিনগুলো (অর্থাৎ আটাশ ও উনত্রিশতম দিন) ক্বিয়াম করেননি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; ইবনু মাজাহও এভাবে বর্ণনা নকল করেছেন। তিরমিয়ীও নিজের বর্ণনায় “এরপর আমাদের তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সঙ্গে মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে কিয়াম করেননি” শব্দগুলো উল্লেখ করেনি।) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৩৭৫, আত্ তিরমিযী ৮০৬, নাসায়ী ১৬০৫, ইবনু মাজাহ্ ১৩২৭, দারিমী ১৭৭৭, মুসনাদ আল বায্যার ৪০৪৩, ইবনু খুযায়মাহ্ ২২০৬, ইবনু হিব্বান ২৫৪৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৯৯১।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন