৪/৩৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৩-[১১] - ইস্তিখারাহ সালাত ও দোয়ার নিয়ম
ইশরাক ও চাশতের সালাত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ইস্তিখারাহ সালাত: সিদ্ধান্তের আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩২৩-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩২৩-[১১]
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُعَلِّمُنَا الِاسْتِخَارَةَ فِي الْأُمُورِ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْانِ يَقُولُ: «إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيْضَةِ ثُمَّ لْيَقُلْ: اَللّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّك تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ اَللّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِّىْ فِىْ دِينِىْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِىْ - أَوْقَالَ فِىْ عَاجِلِ أَمْرِىْ وَاجِلِه - فَاقْدُرْهُ لِىْ وَيَسِّرْهُ لِىْ ثُمَّ بَارِكْ لِىْ فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِّىْ فِىْ دِينِىْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِىْ - أَوْ قَالَ فِىْ عَاجِلِ أَمْرِىْ وَاجِلِه - فَاصْرِفْهُ عَنِّىْ وَاصْرِفْنِىْ عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِىْ بِه». قَالَ: «وَيُسَمِّيْ حَاجَتَه». رَوَاهُ البُخَارِيُّ
জাবির (রাঃ) ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (আল্লাহর নিকট) ‘ইস্তিখারাহ্’ করার নিয়ম ও দোয়া এ রকম শিখাতেন, যেভাবে আমাদেরকে তিনি কোরআনের সূরা শিখাতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কোন লোক কোন কাজ করার সংকল্প করলে সে যেন ফরজ সালাত ব্যতীত দুই রাক্‘আত নফল সালাত আদায় করে।তারপর এ দোয়া পড়ে- “আল্ল-হুম্মা ইন্নি আস্তাখীরুকা বি‘’ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীমি ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা- আক্বদিরু ওয়া তা‘লামু ওয়ালা- আ‘লামু ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব, আল্ল-হুম্মা ইন্না কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দীনী ওয়ামা ‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতী আমরী আও ক্বা-লা ফী ‘আ-জিলি আমরী ওয়া আ-জিলিহী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী সুম্মা বা-রিক লী ফিহি ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফি দীনি ওয়ামা ‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতী আমরী আও ক্বা-লা ফী ‘আ-জিলি আমরী ওয়া আ-জিলিহী ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফ্নী ‘আন্হু ওয়াক্ব দুরলিয়াল খয়রা হায়সু কা-না সুম্মা আরযিনী বিহী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জানার ভিত্তিতে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। তোমার কুদরতের দ্বারা তোমার নিকট নেক ‘আমাল করার শক্তি প্রার্থনা করছি। তোমার নিকট তোমার মহা ফজল চাই। এজন্য তুমি সকল কাজের শক্তি দাও। আমি তোমার ইচ্ছা ব্যতীত কোন কাজ করতে পারব না। তুমি সব কিছুই জানো। আমি কিছুই জানি না। সব গোপন কথা তোমার জানা। হে আল্লাহ! তুমি যদি ইচ্ছা কর এ কাজটি (উদ্দেশ্য) আমার জন্য আমার দীনে, দুনিয়ায়, আমার জীবনে, আমার পরকালে অথবা বলেছেন, এ দুনিয়ায় ঐ দুনিয়ায় ভাল হবে, তাহলে তা আমার জন্যে ব্যবস্থা করে দাও। আমার জন্য তা সহজ করে দাও। তারপর আমার জন্য বারাকাত দান করো। আর তুমি যদি এ কাজকে আমার জন্য আমার দীন, আমার জীবন, আমার পরকাল অথবা বলেছেন, আমার ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করো, তাহলে আমাকে তার থেকে, আর তাকে আমার থেকে ফিরিয়ে রাখো। আর আমার জন্যে যা কল্যাণকর তা করে দাও। অতঃপর এর সঙ্গে আমাকে রাজী করো।)হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ কাজটি’ বলার সময় দরকারের ব্যাপারটি স্মরণ করতে হবে। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১১৬২, ৬৩৮২, ৭৩৯০, আবূ দাঊদ ১৫৩৮, আত্ তিরমিযী ৪৮০, ইবনু মাজাহ্ ১৩৮৩, নাসায়ী ৩২৫২, আহমাদ ১৪৭০৭, ইবনু হিব্বান ৮৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৯২১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০১৬, সহীহ আত্ তারগীব ৬৮২, সহীহ আল জামি‘ ৮৭৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৩-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদেরকে ইস্তিখারাহ এমনভাবে শিখাতেন, যেমন কুরআনের সূরা শিখাতেন। অর্থাৎ এটি ছিল গুরুত্বের সঙ্গে শেখানো একটি দোয়া ও আমল। কোনো ব্যক্তি কোনো কাজের সংকল্প করলে সে ফরজ সালাত ছাড়া দুই রাকআত নফল সালাত পড়বে। এরপর আল্লাহর ইলম, কুদরত ও ফজলের মাধ্যমে কল্যাণ চাইবে। দোয়ায় বলা হয়, কাজটি দীন, দুনিয়া ও শেষ ফলাফলে ভালো হলে আল্লাহ যেন সহজ করে দেন ও বরকত দেন। আর ক্ষতিকর হলে তা দূরে সরিয়ে দেন এবং কল্যাণ যেখানে আছে তা দান করেন। এখানে ইস্তিখারাহর মূল শিক্ষা হলো, সিদ্ধান্তের আগে নিজের সীমিত জ্ঞানের বদলে আল্লাহর জ্ঞানের উপর ভরসা করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে দুই রাকআত নফল সালাত পড়ে ইস্তিখারাহ করা শেখানো হয়েছে।
- ইস্তিখারাহ দোয়ায় আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার উপর ভরসা করা হয়।
- কল্যাণ হলে সহজতা ও বরকত চাওয়া, ক্ষতি হলে দূরে থাকার দোয়া করা হয়।
- দোয়ায় নিজের প্রয়োজনের বিষয়টি স্মরণ করা উচিত।
