৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৪-[১] - গুনাহের পর উযূ, সালাত ও ইস্তিগফার
নফল সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল প্রকার নফল সালাত, যেগুলো নবী (ﷺ) থেকে প্রমাণিত, যথাক্রমে সালাতুল তাহ্ইয়্যাতুল উযূ, সালাতুন ইস্তিখারাহ্, তওবা্, সালাতুল হাজাত এবং সালাতুত্ তাসবীহ।التَّطَوُّعِশব্দটিالطوع، والطاعةশব্দ হতে গৃহীত অর্থ মান্য করা, বাস্তবায়ন করা, মেনে নেয়া ইত্যাদি এবংالتَّطَوُّعِশব্দটি ফরয ও ওয়াজিব ব্যতীত সকল নফলের উপর মুত্বলাক (তালাক)্ব (সকল নফলের ক্ষেত্রে এ শব্দটি প্রযোজ্য) আর যে বা যারা ফরয কিংবা ওয়াজিবের উপর অতিরিক্ত ‘আমলুস্ সালিহ বা সৎকর্ম সম্পাদন করে তাকে (مُتَطَوِّعِ) বলা হয়।
গুনাহের পর তাওবা: উযূ, সালাত ও ইস্তিগফারের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৩২৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩২৪-[১]
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ. قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ثُمَّ يُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللّهَ إِلَّا غَفَرَ الله لَه ثُمَّ قَرَأَ هذِه الاية: ﴿وَالَّذِيْنَ إِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوْا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللهَ فَاسْتَغْفِرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ﴾ [آل عمران 3 : 135]. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَّا أَنَّ ابْنَ مَاجَهْ لَمْ يَذْكُرِ الْايَةَ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমীরুল মু’মিনীন আবূ বাকর সিদ্দীক্ব (রাঃ) আমাকে বলেছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সত্য বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি : যে কোন লোক অন্যায় করার পর (লজ্জিত হয়ে) উঠে গিয়ে উযূ করে ও সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা‘আলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন (মূল আয়াত হাদীসে আছে) : - “এবং যেসব লোক এমন কোন কাজ করে বসে যা বাড়াবাড়ি ও নিজেদের ওপর যুলম, এরপর আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, তখন নিজেদের গুনাহের জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে”- (সূরা আ-ল ‘ইমরান ৩ : ১৩৫)।(তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু ইবনু মাজাহ উপরোক্ত আয়াত উল্লেখ করেননি)। [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৪০৬, ইবনু মাজাহ্ ১৩৯৫, আহমাদ ২, সহীহ আত্ তারগীব ৬৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩২৪-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে শুনেছেন যে, কোনো ব্যক্তি অন্যায় করার পর উঠে উযূ করে, সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم সূরা আলে ইমরানের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, যারা কোনো অশালীন কাজ করে বা নিজেদের উপর যুলম করে, তারপর আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, গুনাহের পর হতাশ হয়ে বসে থাকা নয়; বরং লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। এখানে তাওবা, ইস্তিগফার, উযূ ও সালাত একসঙ্গে এসেছে। তাই মুমিন ভুল করলে দ্রুত নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার বড় অংশ।
- উযূ করে সালাত আদায় করা গুনাহের পর ফিরে আসার একটি সুন্দর আমল।
- ভুল হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে।
- নিজের ওপর যুলম বুঝে ইস্তিগফার করা মুমিনের লক্ষণ।
